
হরমুজ নিয়ে আবার উত্তেজনা, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়া শত শত জাহাজ ও এগুলোর নাবিকদের উদ্ধারে সোমবার (৪ মে) ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের ছয়টি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
এদিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরান হামলা চালালে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেন। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন আগের তুলনায় অনেক উন্নত মানের এবং প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলো ছড়িয়ে আছে এবং সেগুলো আধুনিক সব মারণাস্ত্র ও সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেরা সব প্রযুক্তির অধিকারী।’
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী বা তাদের কোনো প্রকল্পে হস্তক্ষেপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, কেবল শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন রণতরি এবং কৌশলগত সরঞ্জামগুলো নির্দিষ্ট অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সেগুলোর সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর অধীনে পরিচালিত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ওয়াশিংটন যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
হুমকি এবং কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বর্তমান মনোভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ‘নমনীয়’ হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের কারণেই হয়তো তেহরান এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশের যাতায়াত পথ। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই কড়া বার্তার পর ইরান কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না অথবা ওই অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় কোনো নতুন সামরিক মহড়া শুরু হয় কি না। সূত্র: আল–জাজিরা
এমটিআই