ই-পেপার বাংলা কনভার্টার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



১১ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জীবন নিয়ে শঙ্কা
মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:৪০ পিএম  (ভিজিটর : ১২৮)
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১১ বছরের কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৪ মে) সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মদন থানায় মেয়েটির মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। একই এলাকার বাসিন্দা স্বামীহারা মহিলার একমাত্র মেয়ে ওই শিশুটি। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের বছর নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ঐ মাদরাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন ঐ মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

পরবর্তিতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয়। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তার জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে বিষয়টি। শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে দেখান এবং তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্তা।

ডাক্তার সায়মা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাচ্চাটি তার মায়ের সাথে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। তিনি পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় (Anemic) ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে। পরীক্ষা করে দেখা যায় যে বাচ্চার বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। শিশুটির বয়স ১১ বছর, উচ্চতা ৪.৫ ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। শিশুটির পেলভিসের (কোমরের হাড়) মাপ প্রায় ৫০-৫৫ মিলিমিটার। গর্ভস্থ শিশুটির বাইপ্যারাইটাল ডায়ামিটার (মাথার দুপাশের হাড়ের দূরত্ব) প্রায় ৭৪ মিলিমিটার। 

শিশুটির সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাচ্চাটির রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মাত্র ৮.২, যা মারাত্মক রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। 

এছাড়া সে অপুষ্টি এবং কৃমির সমস্যায়ও ভুগছে। সরু পেলভিসের ভেতর দিয়ে বড় মাথার বাচ্চা প্রসব করা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়, যা মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। 

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব। শুধুমাত্র 'ক্র্যানিওটমি' (বাচ্চার মাথা কেটে বের করা) পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি করা যেতে পারে, যা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। ১১ বছরের এই ছোট বাচ্চার শরীরে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া বা ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করা চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে রয়েছে। 

যখন সে প্রথম চেম্বারে ঢোকে, তখন সে কথা বলার সাহস পাচ্ছিল না এবং অনেকক্ষণ মুখ খুলে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারেনি। শিশুটি এবং তার পুরো পরিবার এই ঘটনায় মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত বা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। শিশুটি এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না যে তার সাথে ঠিক কী ঘটে গিয়েছে বা ভবিষ্যতে তার সাথে কী হতে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে, যা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১/১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামীকে ধরার চেস্টন চলছে।

এমটিআই







সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com