আটককৃতরা হলেন-জিয়াউর রহমান (৩৫), মো. সাকের (২৮), আবু তৈয়ব (৩৫) এবং জাফর মিয়া (৪০)। তারা সবাই বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা)।
র্যাব-১৫, সিপিসি-৩ বান্দরবান ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে একটি বিশাল মাদকের চালান যাত্রীবাহী বাসে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে ঠাকুরদিঘী বাজারের টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে একটি চেকপোস্ট বসায় র্যাব। এসময় হানিফ পরিবহনের একটি লোকাল বাস থেকে নামার পর সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বহনের কথা অস্বীকার করলেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তাদের পেটের ভেতর ইয়াবার পোটলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, আটকের পর তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, চারজনের পেটের ভেতরেই অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি রয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবার ছোট ছোট পোটলাগুলো নির্গত করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারিরা জানায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে এই পদ্ধতিতে মাদক পাচার করে আসছে। ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো প্রথমে পলিথিনে মুড়িয়ে কসটেপ দিয়ে ছোট ছোট পোটলা তৈরি করা হয়। এরপর কলা ও পাউরুটির সাহায্যে এগুলো গিলে পেটে জমা করা হয়। তারা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই বিষাক্ত পোটলাগুলো পেটে বহন করতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা বেশি করে সবজি দিয়ে ভাত এবং বিশেষ সিরাপ সেবন করে মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করে আনে।
এ বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা দিন দিন অত্যন্ত জঘন্য ও নোংরা কৌশল অবলম্বন করছে। এই ইয়াবাগুলোই পরবর্তীতে সাধারণ মাদকসেবীরা গ্রহণ করছে। যুবসমাজকে সচেতন করতে মাদক ব্যবসায়ীদের এই কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড সমাজের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে র্যাব।