প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম (ভিজিটর : ২)
অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওরগুলোতে পানি বেড়ে অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৩০৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। তাদের মতে, হাওরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জমিই ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।
গত সোমবার থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জায়গায় বুকসমান, কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। আবার যেসব ধান কাটা হচ্ছে, রোদ না থাকায় তা শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনে নতুন করে আরও জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ঋণ ও ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। হঠাৎ পানির ঢলে ফসল হারিয়ে তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগরের হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগাম পানি আসার আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানির মধ্য থেকেই কেটে নেওয়া হয়েছে। সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হাওরে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।