চলতি মৌসুমে চোট খুব ভুগিয়েছে মার্টিন ওদেগোর ও কাই হাভার্টজকে। তাদের অনুপস্থিতিতে দল সাজাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাকে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে দলটির জন্য সুখবর, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত এই দুই মিডফিল্ডার।
পেশির চোটে দলের সবশেষ দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি হাভার্টজ, এর মধ্যে ছিল আতলেতিকোর বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগও। মাদ্রিদের দলটির মাঠে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ওই ম্যাচে অবশ্য খেলেন আর্সেনাল অধিনায়ক ওদেগোর, সেদিন ৫৮তম মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ। পরে হাঁটুর সমস্যায় নরওয়ে তারকা খেলতে পারেননি সবশেষ ম্যাচে, প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের বিপক্ষে।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে ২০ বছর পর ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে নামবে আর্সেনাল। এর আগের দিন আর্তেতা জানান, ওদেগোর ও হাভার্টজ এখন পুরোপুরি ফিট।
“হ্যাঁ, তারা (ওদেগোর ও হাভার্টজ) ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত, তারা দলেও আছে, দুজনই। তাদের ফেরাটা দলের জন্য দারুণ ব্যাপার। ভিন্ন কৌশলে খেলার জন্য আমাদের বিকল্প প্রয়োজন, সেটা শুরু থেকে হোক কিংবা পরে। তাদের ফিরে পাওয়াটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।”
বারবার চোট ছোবল দেওয়ায় এবারের প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ২২টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন ওদেগোর। একই কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তিনি দলের বাইরে ছিলেন ছয়টি ম্যাচে। আর মৌসুমের প্রথমভাবে হাঁটুর চোটে চার মাসের মতো বাইরে ছিলেন হাভার্টজ, এরপর থেকে প্রায়ই পেশির সমস্যায় ভুগতে হয়েছে এই জার্মান তারকাকে।
আক্রমণভাগের বড় ভরসা বুকায়ো সাকাকেও এবার অনেক ম্যাচে পায়নি আর্সেনাল। মেত্রোপলিতানোয় প্রথম লেগেও খেলতে পারেননি তিনি। তবে গত শনিবার ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড, সেদিন প্রথমার্ধ খেলে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
মৌসুমের খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সাকাকে সেরা ছন্দে ফিরে পেয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন আর্তেতা।
“দারুণ ব্যাপার, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে ঠিক এটাই আমাদের দরকার। এই খেলোয়াড়রা কেবল খেলতেই প্রস্তুত নয়, সেরা অবস্থায় থেকে পারফর্ম করতে ও ব্যবধান গড়ে দিতেও প্রস্তুত তারা।”
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার হাতছানি আর্সেনালের সামনে। এর আগে ২০০৬ সালের শিরোপা লড়াইয়ে তারা হেরেছিল বার্সেলোনার বিপক্ষে।
আর আতলেতিকোর সামনে চতুর্থবারের মতো প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে ওঠার সুযোগ, ২০১৬ সালের পর প্রথম।