প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১১:০৩ এএম (ভিজিটর : ৪১)
দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০১৭ সালের পর আবারও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শিরোপা ঘরে তুললো পেশোয়ার। আর এই জয়ে বল হাতে গতির ঝড় তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দলটিকে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ ভূমিকা রাখায় সতীর্থ ও ক্রিকেট বোদ্ধাদের প্রশংসায় ভাসছেন এই টাইগার পেসার।
অধিনায়ক হিসেবে এটিই বাবর আজমের প্রথম পিএসএল শিরোপা জয়। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পেশোয়ার আরও তিনবার ফাইনালে উঠলেও ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাদের। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচলো।
সে জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে পেশোয়ার জালমির বোলাররা হায়দরাবাদকে মাত্র ১২৯ রানে (১৮ ওভার) গুটিয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মূল ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানাও ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। তার একটি উইকেট ছিল ডেন্জারম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, যাকে প্রথম বলেই আউট করেন রানা।
১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পেশোয়ার। প্রথম ওভারেই গোল্ডেন ডাকে সাজঘরে ফেরেন বাবর আজম। মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দলটি চাপের মুখে পড়ে বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন অ্যারন হার্ডি এবং আব্দুল সামাদ। হার্ডি ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রান এবং সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এবারের আসরে পেশোয়ারের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিলেন নাহিদ রানা। বিশেষ করে করাচির উইকেটে তার ১৫১ কিমি গতিতে করা বোলিং রীতিমতো আতঙ্কে ফেলে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের। ফাইনাল শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রানা বলেন, "আমি এই মুহূর্তটি খুব উপভোগ করছি। গত বছর স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ পাইনি। এবার সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।"
নাহিদ রানা এবার ৫ ম্যাচে মাত্র ১০.৮৯ গড়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন। ইকোনমি ছিল মাত্র ৫.৪৪।
পেশোয়ারের জয়ের অন্যতম নায়ক অ্যারন হার্ডি নাহিদ রানার বোলিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, 'নাহিদ মাত্র তিন দিন আগে বিমানে করে এখানে এসেছে এবং আজও দুর্দান্ত গতিতে বল করেছে। যখন সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করছিল, তখন ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকা ছিল কঠিন। তার মতো একজন বোলারকে বিশ্বের যেকোনো টুর্নামেন্ট স্বাগত জানাবে।'
পিএসএল মিশন শেষ করেই নাহিদ রানাকে যোগ দিতে হবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে। মজার ছলে হার্ডি আরও বলেন, "সামনের সপ্তাহে ওর টেস্ট ম্যাচ আছে। বাবর আজম নিশ্চয়ই ওকে (প্রতিপক্ষ হিসেবে) মোকাবিলা করার জন্য খুব একটা মুখিয়ে নেই। তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমরা দেখতেই পারি।"
এমটিআই