
সরকার দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।
সোমবার (৪ মে) জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, যা কমাতে নজরদারি বৃদ্ধি জরুরি। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে জাতীয় মহাসড়ক, এরপর আঞ্চলিক এবং পরবর্তীকালে জেলা মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই এই কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হলেও ধাপে ধাপে কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে ডিসিরাই সরকারের কাজগুলো করেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মতো বড় প্রকল্পে চার বছরে মাত্র ২০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছিল, যা আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে ৪৬ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।”
প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে জেলা প্রশাসকদের ল্যান্ড একুইজিশন বা ভূমি অধিগ্রহণে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিসিদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, রাস্তার দুপাশের বাজার, অবৈধ বিলবোর্ড এবং মৌসুমি পশুর হাট অপসারণ করতে বলা হয়েছে। কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, যা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ। যত্রতত্র মানহীন স্পিড ব্রেকার বসানো বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্রেকার অপসারণের কথা বলা হয়েছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। একে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এবং ট্রেনে পাথর ছোড়ার মতো অপরাধ দমনে রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও তৎপর করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে শিশুদের সচেতন করতে ওই অঞ্চলগুলোতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন কোরবানি ঈদে যাত্রী ও পশুবাহী ট্রাকের ব্যাপক চাপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “গতবার ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়ার যাত্রী ছিল দেড় কোটি, এবার তা আড়াই কোটি হতে পারে। সঙ্গে প্রায় এক কোটি পশু মুভ করবে। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।” বিশেষ করে চন্দ্রা মোড় এবং ঢাকা-বরিশাল ন্যারো মহাসড়ক নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানান তিনি।
সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজির কোনও সুযোগ নেই। এটি একটি অপরাধ এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”
বাজেট ও অগ্রাধিকার নিয়ে তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের দেওয়া ডিও লেটার অনুযায়ী রাস্তা সম্প্রসারণে ৩ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বাজেটে সেই তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত। এই খাতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হতে পারে। তাই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেখে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে।