
সাংবাদিকতার নোবেল খ্যাত ‘পুলিৎজার পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের ছবি তুলে ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে এই সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলগোরা । এ ছাড়াও ‘জাতীয় রিপোর্টিং’ ও ‘বিট রিপোর্টিং’ দুই বিভাগে পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাহের মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেন বলে জানায় তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটিওয়ার্ল্ড।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলা শুরু পর থেকে সেখানকার মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে সাহেরের তোলা ছবিতে।
ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষের করুণ দৃশ্যগুলো ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দেন পুলিৎজার প্যানেলের প্রশাসক মারজোরি মিলার।
পুরস্কার ঘোষণার সময় বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন মিলার। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরো বেড়েছে।
সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এই পুরস্কার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে যাচ্ছে।
‘ট্র্যাপড ইন গাজা : বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’ অর্থাৎ গাজায় দুর্ভিক্ষ ও হামলার ফাঁদে আটকা পড়া- এ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে যুদ্ধের কবলে পড়া নিরীহ ও নিরপেক্ষ বেসামরিক মানুষদের দুর্দশার বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছেন সাহের।
বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন মায়ামি হেরাল্ড নিউজের জুলি কে. ব্রাউন। আমেরিকান অর্থদাতা এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন করে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে।
‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও এ বছরের পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে রয়টার্স। শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে।
এ বছর বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন, এপিসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে সাহেরের পুরস্কারও অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পুরস্কার সাংবাদিকতার নোবেল হিসেবেও খ্যাত। ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর এ পুরস্কার ঘোষণা করে।