প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম আপডেট: ০৫.০৫.২০২৬ ৬:৫১ পিএম (ভিজিটর : ৭)

বিধানসভা নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়ে তাকে পেটে এবং পিঠে লাথি মারা হয়েছে বলে এই গুরুতর অভিযোগ করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজ এলাকা ভবানীপুরে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এই কেন্দ্রে তাকে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে ফলাফল ঘোষণার আগেই গতকাল সোমবার ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে অবস্থিত গণনাকেন্দ্রের বিষয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গণনাকেন্দ্র থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মমতা বলেন, ‘ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমার পেটে ও পিঠে লাথি মেরেছে। ওই সময় গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘দলের একজন এজেন্টকেও গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাই আমি কয়েক মিনিটের জন্য ভেতরে গিয়ে এজেন্টদের ঢোকানোর অনুরোধ করেছিলাম। তারা আশ্বাস দিলেও পরে আর কাউকে পাওয়া ঢুকতে দেয়নি।’
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের অধীনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নজিরবিহীনভাবে খারাপ আচরণ করেছে। পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি একে ‘ভোট লুট’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন লুট করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকেও আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে যা করেছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা কোনো জয় নয়, এটি অনৈতিক বিজয়।’
অন্যদিকে বিজয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই জয় মানুষের জয়।’
এদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং একে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।