প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম (ভিজিটর : ৭)
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা-এর এক বিশ্লেষণে এমন ৮টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যা দলের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য দুর্বলতার দিকগুলো স্পষ্ট করে।
১. দীর্ঘ শাসনে বিরোধিতা বৃদ্ধি
একটানা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের প্রভাব, সিন্ডিকেট সংস্কৃতি এবং সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।
২. দুর্নীতির অভিযোগ
চিটফান্ড, নারদ, নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে রেশন ও পাচার ইস্যু—বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলকে চাপে ফেলেছে। একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩. ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) ভুয়া বা অকার্যকর ভোটার বাদ পড়ায় শাসকদলের উপর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়েছে।
৪. তোষণের বিতর্ক
সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের প্রধান হাতিয়ার। সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ সংখ্যাগুরু ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।
৫. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা
নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক রদবদলের ফলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
৬. ‘সন্ত্রাস’ নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন
কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং কড়া নজরদারির কারণে ভোটের সময় আগের মতো প্রভাব বিস্তার সম্ভব হয়নি বলে বিশ্লেষকদের মত।
৭. শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ
নির্বিঘ্ন ও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বিরোধী দলগুলোর পক্ষে কাজ করেছে। এতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন।
৮. আই-প্যাক ইস্যু
তৃণমূলের কৌশলগত অংশীদার আই-প্যাক হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় সাংগঠনিকভাবে ধাক্কা লাগে। দলীয় নেতাদের একাংশের মতে, এতে প্রচার ও পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ে।