ই-পেপার বাংলা কনভার্টার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



আলো-ঝলমল পর্দা পেরিয়ে ক্ষমতার মঞ্চে বিজয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম  (ভিজিটর : ১৫)
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয় এখন শুধু পর্দার তারকা নন, তিনি বাস্তবের জননেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিজয় নামের সাথে ‘থালাপতি’ বা ‘কমান্ডার’ উপাধিটি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে তার জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার ফসল। হঠাৎ তৈরি তারকা-উপাধি নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা জনপ্রিয়তা, জনসম্পৃক্ততা আর সাংস্কৃতিক প্রতীকের এক পরিণতি। 

শৈশব থেকেই তার যাত্রা শুরু সিনেমার ভেতর দিয়ে। শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে পর্দার সঙ্গে স্বাভাবিক করে তোলে। তবে তার উত্থান কোনো ‘লিখিত নিয়তি’ ছিল না; বরং ছিল ধারাবাহিক চেষ্টা, সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা।

তার বড়পর্দার যাত্রা শুরু থেকেই শুধু বিনোদনের গল্প ছিল না; বরং ধীরে ধীরে তা এমন এক চরিত্র-নির্মাণে পরিণত হয়েছে, যেখানে নায়কের প্রতিটি অবস্থান জনতার সঙ্গে এক ধরনের নৈতিক সংযোগ তৈরি করে। তার চলচ্চিত্রজীবনে যে নায়কের পুনরাবৃত্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, সে সাধারণত ক্ষমতার বাইরে থাকা একজন মানুষ—যে একা দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে, ব্যবস্থা বদলাতে চায় এবং শেষ পর্যন্ত জনতার ভরসায় জয়ী হয়।

এই কাঠামোই তাকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধুমাত্র অভিনেতা নয়, বরং ‘জনপ্রিয় প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিজয় নিজেই বলেছেন, “আমি যা করি, সেটা বিনোদনের জন্য নয় শুধু; মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য।”

এই জায়গাতেই তার যাত্রা ধীরে ধীরে রাজনীতির ভাষার দিকে সরে যেতে শুরু করে। কারণ সিনেমার এই বারবার ফিরে আসা চরিত্রগুলো—যেখানে ব্যক্তি ন্যায়বোধ, সামাজিক দায়িত্ব এবং জনতার পক্ষ নেওয়া কেন্দ্রীয় বিষয়—দর্শকের মনে এক ধরনের বাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করে। দর্শক শুধু গল্প দেখে না, বরং সেই নায়কের ভেতর নিজেদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাও খুঁজে পেতে শুরু করে।

ফলে বিজয়ের পর্দার ইমেজ ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রতিচ্ছায়া হয়ে ওঠে।

এই রূপান্তরের পটভূমিতে তুলনা করলে দেখা যায়, রজনীকান্ত যেখানে তার সিনেমা ও ব্যক্তিত্বের মধ্য দিয়ে এক ধরনের অতিমানবিক জন-আবেগ তৈরি করেছেন এবং কমল হাসান যেখানে যুক্তিবাদী, বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন, সেখানে বিজয় গড়ে তুলেছেন সবচেয়ে সরল কিন্তু কার্যকর একটি ভাষা—জনতার আবেগ, পরিচয়ের আত্মিক সংযোগ এবং ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের সহজ রাজনৈতিক অনুভূতি।

এই কারণেই তার সিনেমার চরিত্রগুলোকে আলাদা করে রাজনৈতিকভাবে পড়া যায়—তারা প্রায়ই কোনো কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের রূপ, যারা শেষ পর্যন্ত জনতার শক্তিতেই জয়ী হয়।

এই দীর্ঘ পর্দার নির্মাণই তাকে বাস্তব রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়। তিনি যখন নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করেন, তখন তা হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং বহু বছরের জনসম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ। তার রাজনৈতিক সংগঠন তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজগাম- ঘোষণার পর প্রথম দিকের জনসভাগুলোতেই এই রূপান্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিশাল জনসমাগম, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তাকে একধরনের ‘পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে আলোচনায় নিয়ে আসে।

বিজয়ের বহুল আলোচিত উক্তি—“পরিবর্তন চাইলে শুধু দেখা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি।”

তার বক্তব্যের কেন্দ্রে সবসময়ই ছিল পরিবর্তনের ধারণা, জনতার অধিকার এবং সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। তিনি বারবার যে ভাবটি সামনে এনেছেন, তা হলো রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা। তার জনসভাগুলোতে যে আবহ তৈরি হয়, তা অনেক সময় সিনেমার প্রিমিয়ারের আবেগকেও ছাড়িয়ে যায়—যেখানে দর্শক আর দর্শক থাকে না, বরং অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে।

এই পর্যায়ে রজনীকান্ত ও কমল হাসানের প্রসঙ্গ আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তারা দুজনেই একসময় জনআবেগ ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার কেন্দ্র ছিলেন, কিন্তু তাদের যাত্রা ভিন্ন পথে গিয়েছে—একজন প্রতীকী প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, অন্যজন বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। বিজয় সেই দুই পথের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে এক নতুন ধরনের জনপ্রিয়-রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করছেন, যেখানে আবেগই মূল শক্তি।

তার সাম্প্রতিক জনসভাগুলো এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির পর্যায়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তা হলো জনসমর্থনের দ্রুত বিস্তার। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব, সিনেমা থেকে আসা পরিচিতি এবং সরাসরি যোগাযোগের কৌশল তাকে একধরনের গতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে এটিকে এখনো চূড়ান্ত জয় বলা যায় না; বরং এটি একটি সম্ভাব্য বিজয়ের দ্বারপ্রান্ত—যেখানে প্রত্যাশা, বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক কাঠামো একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে।

এই যাত্রার শেষ দৃশ্য তাই এখনো লেখা হয়নি। তবে দৃশ্যপটে যে ছবি স্পষ্ট হচ্ছে, তা হলো—একজন পর্দার নায়ক, যিনি ধীরে ধীরে জনতার কল্পনায় বাস্তব নেতৃত্বের রূপ নিচ্ছেন। আর সেই রূপান্তরের ঠিক শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এক অনির্ধারিত ভবিষ্যৎ, যেখানে জয় শুধু ফল নয়, বরং সময়ের লেখা এক সম্ভাবনার কবিতা।







সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com