ই-পেপার বাংলা কনভার্টার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার সোমবার ● ৪ মে ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬
মমতার বাংলায় পদ্মের জয়জয়কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম  (ভিজিটর : ২৩)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পথে কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনের এই ফল যেমন বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থান, তেমনি ভোট দিয়ে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন পরিবর্তনে রায় দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। এতে অবসান ঘটতে চলেছে মমতা ব্যানার্জি যুগের। পশ্চিমবঙ্গ এখন নরেন্দ্র মোদির দখলে। 

বঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুটেছে ‘পদ্ম’-মোদি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল নির্বাচনের ফলাফল ও গণনার প্রবণতায় বিজেপির বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মোদি তার বার্তায় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়লাভ করেছে’। 

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট (জনদেশ) দিয়েছে। আমি তাদের আশ্বস্ত করছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার উপহার দেব যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে’। 

‘এটা লুট-লুট-লুট’-বিস্ফোরক মমতা: নির্বাচনে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘লুট-লুট-লুট হয়েছে’। 

সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তার দল তৃণমূল কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে বিজেপি কমিশন বলে আখ্যা দেন মমতা। তার অভিযোগ, বিজেপি ১০০টির বেশি আসন লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশনই বিজেপি কমিশন। সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘আমি সিও এবং মনোজ আগারওয়ালকে অভিযোগ জানিয়েছি কিন্তু তারা কিছুই করেনি’। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে যা করলো তা পুরোপুরি অবৈধ। এটা লুট, লুট, লুট’।

এদিকে নির্বাচনের পর পাঁচটি জরিপ সংস্থা তাদের বুথফেরত জরিপে বিজেপিকে ১৪৬ থেকে ১৯২টি আসন দিয়েছিল। অন্যদিকে, দুটি সংস্থা মমতা ব্যানার্জির ফেরার পূর্বাভাস দিয়ে তৃণমূলকে ১৭৭ থেকে ২০৫টি আসন দিয়েছিল। মমতা ব্যানার্জি অবশ্য এক্সিট পোলগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ২২০টিরও বেশি আসন জিতবে। তবে শেষ পর্যন্ত গতকালের ফল এক্সিট পোলের অনুমানকেই সত্য প্রমাণ করল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, এই নির্বাচনের ফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 

উত্তরবঙ্গে বিজেপি বেশ এগিয়ে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দলটির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে এবার দলটি তৃণমূলের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ঘাঁটিতেও বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। মেদিনীপুরে বিজেপি আদিবাসী ভোট পেয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের আরেক দুর্গ বর্ধমানেও গেরুয়া ঝড় স্পষ্ট। একই সঙ্গে কলকাতা এবং হাওড়ার মতো প্রধান শহুরে এলাকাগুলো তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এবং নির্বাচনকে বিজেপির পক্ষে নিয়ে গেছে। প্রেসিডেন্সি অঞ্চলেও গেরুয়া ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। 

সোমবার (৪ মে) রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সময়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৬১টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ৪৭টি আসনে এগিয়ে আছে। অর্থাৎ মোট ২০৮টি আসনে বিজয়ের পথে বিজেপি। অন্যদিকে গত তিন মেয়াদে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ৫৮টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ২১টি আসনে এগিয়ে আছে। অর্থাৎ মোট ৭৯টি আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে কংগ্রেস দুটি, হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি, সিপিআই (এম) একটি ও এআইএসএফ একটি আসনে বিজয়ের পথে রয়েছে। 

এ রাজ্যের মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ফলতা আসনে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত হওয়ায় গতকাল ২৯৩ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়। সরকার গঠন করতে হলে একটি দলকে কমপক্ষে ১৪৭টি আসন পেতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এ রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতাকর্মীরা বিজয় উদ্যাপন করছেন। জয়ের পথে থাকা বিজেপি সরকার গঠন করলে কে হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী- সে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন, এ প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন- বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ।

পশ্চিমবঙ্গের মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের ৪৫৮টি হলে গতকাল ভোটগণনা হয়। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়। তাতে রেকর্ড ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়ে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে আগামী ২১ মে। 

এর আগে ২০২১ সালে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৫টি আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। 

ভারতের জাতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নাম যেমন ‘লোকসভা’, তেমনি একটি রাজ্যের আইন পরিষদের নিম্নকক্ষের নাম ‘বিধানসভা’। একেকটি রাজ্যের বিধানসভার সদস্য কত হবে, তা নির্ভর করে সেই রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর। বিধানসভার সদস্যদের ‘বিধায়ক’ বলা হয়। তারা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য ২৯৪ জন।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতেও গতকাল একযোগে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া এসব রাজ্যে ভোট গণনায় কোন দল কতটা এগিয়ে আছে তা নিচে দেওয়া হলো।

তামিলনাড়ুতে টিভিকের উত্থান : তামিলনাড়ুর ২৩৩টি আসনে জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় থালাপতির দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) এগিয়ে আছে ১৩৭ আসনে। দলটি এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে থেকে একক বৃহত্তম দলের অবস্থানে রয়েছে। আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে ৪৩ আসনে।

তামিলনাড়ুতে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগম (এআইএডিএমকে) জোট এগিয়ে আছে ৬৩টি আসনে। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের ডিএমকে জোট এগিয়ে ৬১টিতে। দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে যে দ্বি-দলীয় প্রতিযোগিতা চলে আসছিল, এবার তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে টিভিকে।

কেরালায় ইউডিএফ এগিয়ে : কেরালায় ১৪০টি আসনের পূর্ণ গণনার প্রবণতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) এগিয়ে আছে ৮৭টি আসনে। জয় পেয়েছে ১৭ আসনে। ক্ষমতাসীন বাম জোট লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এগিয়ে আছে ৩৮টিতে। অন্যরা ১৫টিতে এগিয়ে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে ৩টি আসনে। কেরালায় প্রতি নির্বাচনেই ক্ষমতার হাতবদল হয়। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আসামে বিজেপি এগিয়ে : আসামে ১২৬টি আসনের গণনায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে আছে ৯৭টি আসনে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ২৭টিতে। এআইইউডিএফ জোট ২টি আসনে এগিয়ে আছে।

পদুচেরিতে এনডিএ এগিয়ে : কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরির ৩০টি আসনের মধ্যে ২৯টির প্রবণতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এগিয়ে আছে ১৫টিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ এগিয়ে ১টিতে এবং অন্যরা ৩টিতে।

ফল প্রকাশের পর ব্যাপক সহিংসতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটি আসনটি তৃণমূলের দখলে থাকলেও সেখানে অটো ইউনিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। খরদহ আসনে বিজেপির জয়ের পরেই সেখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি পার্টি অফিস ভাঙা হয়।

এর পাশাপাশি ব্যারাকপুরের গণনা কেন্দ্রে নোয়াপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তৃণাঙ্ক ভট্টাচার্যের ওপর হামলা হয়। তাকে গণনা কেন্দ্রের ভেতরেই কিল-চড় ও ঘুষি মারা হয়।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে দেখে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। গণনা কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে কাদামাটি ছোড়া হয়। জগদ্দল কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ও জগদ্দলে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ভাঙ্গরে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মুর্শিদাবাদের হামলার শিকার হয়েছেন সিপিআইএমের একজন পোলিং এজেন্ট।

এমটিআই







সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com