দেশের তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় বাবা-মেয়েসহ পাঁচজন, ময়মনসিংহে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন এবং টাঙ্গাইলে ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন।
সোমবার (৪ মে) বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার তিওর জালাল গ্রামের ইউসুফ আলী, তার দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার (৩০) ও কেয়া মনি (১৭) এবং ভাতিজি-জামাই একই উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের মো. শাহাব উদ্দিন। তবে নিহত অটোরিকশাচালকের পরিচয় জানা যায়নি।
তিওর জালাল গ্রামের বাসিন্দা ও বালীজুরি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী নেওয়াজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুপুরে সিলেট থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে আসছিল রিফাত পরিবহনের একটি বাস। এ সময় সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে ইউসুফ আলী, তার দুই মেয়ে ও ভাতিজি-জামাই যাত্রা করছিলেন। পথে জালালপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে দূরে ছিটকে পড়ে। বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে উল্টে যায়। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক ও ইউসুফ আলীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নিলুফা আক্তার, কেয়া আক্তার ও মো. শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ সুনামগঞ্জে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মুক্তাগাছার মনতলা সত্রাসিয়া সমিতিঘর নামক স্থানে ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন। মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহত তিন নারী হলেন- ময়মনসিংহ জেলা বারের সদস্য সিনিয়র আইনজীবী চৌধুরী হোসনে আরা বেগম (৫৪), জামালপুর সদর উপজেলার রুহিলী গ্রামের সৌদি প্রবাসী খোরশেদ আলমের স্ত্রী ফারজানা আক্তার শিউলি (৩৮) এবং তার মেয়ে খুশনুর জান্নাত রিনতি (১১)। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। নিহত পুরুষের বয়স ৩৭ বছর। তিনি হাসপাতালে মারা যান। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মুক্তাগাছা থেকে ময়মনসিংহগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুক্তাগাছাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি সড়কে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন।
এ সময় ট্রাকের চালক, হেলপার ও অটোরিকশার চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় এক পুরুষ ও এক নারীকে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে পুরুষকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
টাঙ্গাইল : ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ভোর সোয়া ৫টার দিকে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মোহাম্মদ শরিফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফ বলেন, যমুনা সেতুগামী একটি ট্রাক রাবনা ফ্লাইওভারের ওপরে অপর একটি পিকআপ ভ্যান অতিক্রমের সময় সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। নিহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এমটিআই