প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম আপডেট: ২৪.০৪.২০২৬ ৭:৫২ পিএম (ভিজিটর : ৩০৪৪)
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোলড়া গ্রামে জুম্মার নামাজের পর পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ডেকে নিয়ে খন্দকার নজরুল ইসলাম নামে এক প্রকাশককে হত্যা করেছে তারই ছোটভাই খন্দকার ওয়াহেদ ও তার পুত্র তাসিনের নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা যুবদল নেতা খন্দকার রুমনের নির্দেশে তার বোনজামাই খন্দকার ওয়াহিদ এবং তার ছেলে খন্দকার তাসিনের নেতৃত্বে একটি দল অতর্কিতভাবে হামলা চালায় তাদেরই চাচাতো ভাই খন্দকার অভির ওপর। হামলায় অংশ নেয় খন্দকার উৎসবসহ তাসিনের আরও ৪-৫ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তারা সবাই যুবদল নেতা রুমনের অনুসারী বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ির কাছে অবস্থানকালে হঠাৎ করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব কোনো বাকবিতণ্ডা ছাড়াই হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে অভির ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর শুরু করে। এসময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার বাবা নজরুল ইসলাম। কিন্তু হামলাকারীরা তাকেও ছাড় দেয়নি। তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত খন্দকার নজরুল ইসলাম ও তার পুত্র খন্দকার অভিকে উদ্ধার করে সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। অন্যদিকে, মারাত্মকভাবে আহত নজরুল ইসলামকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পথেই তিনি মারা যান।
ঘটনার পরপরই গোলড়া গ্রামে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, পারিবারিক জমি ভাগ-বণ্টন না করে বিক্রি করতে নিষেধ করায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিনের। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। সম্প্রতি জমি বিক্রি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার ভোরের ডাককে বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। ইতিমধ্যে আমি থানাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছি।
সিঙ্গাইর থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) ভোরের ডাককে বলেন, আমাদের টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। জড়িতদের গ্রেফতারে আমরা কাজ করছি।