ই-পেপার বাংলা কনভার্টার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



সারেঙ এর প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমাদের সাংস্কৃতিক অভিভাবক
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:১৩ পিএম আপডেট: ৩১.১২.২০২৫ ৮:৩২ পিএম  (ভিজিটর : ৪১৫)
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক বিগত সতেরা বছরে উপনিবেশিক সংস্কৃতির যে ব্যাপক প্রভাব তৈরি হয়েছে, মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে যে যুদ্ধ তৈরি হয়েছে সেই যুদ্ধে তিনি আমাদের পক্ষের এই দেশের সংস্কৃতির পক্ষের এক লড়াকু মানুষ। তার সত্য উচ্চারণের কারণে তিনি অনেকের বিরাগভাজন তা আমি জানি। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে আমি লক্ষ্য করেছি সব শ্রেণি পেশার মানুষ স্যারকে অসম্ভব ভালোবাসেন। তিনি কখনও সত্য উচ্চারণে পিছপা হন না। আমি হতে কখনও দেখিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আছেন তিনি তাদের অগ্রগণ্য হিসেবে আমাদের কাছে বিবেচিত। তিনি প্রকৃত পক্ষে আমাদের অভিভাবক। আজকে আমাদের সংস্কৃতি অভিভাবক শূন্য। স্যার যে আমাদের মধ্যে আছেন সেটা সত্যি সেটা আমাদের সৌভাগ্য। 

তিনি গত সোমবার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নার সভাকক্ষে সারেঙ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সংখ্যার প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। দৈনিক নিউ নেশনের উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ তোশারফ আলীর সভাপতিত্বে ও সারেঙ সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক  মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য সফিকুল ইসলাম, উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই এর নির্বাহী পরিচালক সামসুল হক, পেট্রোবাংলার সাবেক জিএম ও লেখক ড. ইসমত মির্যা, বিএসটিআই এর উপ-পরিচালক, কথা সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী জয়শ্রী দাস, অধ্যাপক জাহানারা হক, লেখক সরকার হুমায়ূন প্রমুখ । 

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা যখন সামান্য লোভের কাছে বশীভূত হন তখনও আমি দেখেছি স্যারকে কোনো কিছু দিয়ে, কোনো কিছুর বিনিময়ে তার চিন্তা থেকে সরে যাননি। তিনি তার পায়ের নিচে যে দার্শনিক পাটাতন তৈরি করেছেন তা থেকে তাকে কেউ সরাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পদক অতিদ্রুত তাকে দেওয়া উচিত। আমি দাবি করছি সরকারের কাছে। এটা তার প্রাপ্য হয়ে গেছে। তিনি কখনও মুখ ফুটে কারো কাছে কিছু চাননি। পুরস্কার কিংবা রাষ্ট্রের কোনো বড় আসনে বসা-এগুলো চাননি কখনো। জুলাই আন্দোলনের পরে তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি করা হয়েছে সেজন্য কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সুবিদিত ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই আবুল কাশেম ফজলুল হকের শিক্ষকতা সীমায়িত থাকেনি; এর বাইরেও তিনি শিক্ষার্থীদেরকে দেখিয়েছেন শোষণ ও অত্যাচারের মুক্তির পথ। মত ও পথ অধিক হলেও তিনি সত্যকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে তিনি দেশের চিন্তার জগতে কাজ করেছেন। তাই তিনি হয়েছেন দেশ ও সমাজের চিন্তক, শিক্ষক ও আলোর দিশারী। তিনি বলেন, রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করছে। তিনি দেশের শ্রমিক-কৃষক, গরিব মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রথম সারির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য লিখেন এবং তিনি দেশ ও সমাজের অগ্রগতিকে পর্যবেক্ষণ করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে লেখক ও গবেষক সৈয়দ তোশারফ আলী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলাভাষী জন গোষ্ঠীর মধ্যে সূচিত উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণ, যা ছিল মূলত হিন্দু অধিপতি শ্রেণির জাগরণ এবং ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এ দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন অনুরূপ একটি নবজাগরণের সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক, একজন মননশীল মানুষ, কর্মজীবন কাটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সময় পার করছেন বাংলা বিভাগের ছাত্র ছাত্রীদের পড়িয়ে। অধ্যয়ন, লেখা- লেখি, আলোচনা সভায় ও টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করে সময় পার করছেন। ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞান সম্প্রদান করতে গিয়ে তিনি স্বজাতির মননশীলতার সঙ্গে যেমন পরিচিত হয়েছেন ঠিক তেমনি অন্য জাতির মনন ইতিহাসের সঙ্গেও নিজের পরিচয় নিবিড় করে তুলেছেন। তিনি সবাইকে আবুল কাসেম ফজলুল হককে পাঠ করার অনুরোধ জানান। 

এসডিআই এর নির্বাহী পরিচালক সামসুল হক বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুর হক একজন আলোকিত মানুষ। তাঁর দার্শনিক চিন্তার ভান্ডার তার গ্রন্থরাজি আমাদের পথ দেখাবে। শিল্পসাহিত্যের সঙ্গে আমি সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতি আমার আগ্রহ আছে। সারেঙ এর সুন্দর প্রকাশনাকে অভিনন্দিত করি। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে আমার সংযোগ রয়েছে। আমি ভালো বই এবং এ ধরনের প্রকাশনাকে মানুষের দুয়ারে পৌছে দিতে পারব। শিল্প-সাহিত্যের কাজে আমি সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করব। তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।  

অনুষ্ঠানে নান্দনিক মলাটে সারেঙ সংখ্যায় অধাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে তুলে ধরায় সবাই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংগীতশিল্পী লালন বাদশা গান পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করেন।





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com