প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৫২ পিএম আপডেট: ১১.১১.২০২৫ ৩:১৩ পিএম (ভিজিটর : ৬২০)
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী বলেছেন, কবি আল মাহমুদ আজীবন বৈষম্যের রিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি ছিলেন সত্যিকার জাতীয়তাবাদী আদর্শের কবি। যে কারণে তিনি সারা বাংলাদেশে মায়ের সোনার নোলক খুঁজেছেন। সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদকে তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাসাসের প্রেসিডেন্ট করে তাঁকে আরও গৌরবান্বিত করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা এই কবি যখন বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন তাকে বলা হয় কমিউনিস্ট, যখন ইসলামের কথা বলেন তখন তাকে বলা হল মৌলবাদী।
কবি আল মাহমুদের নামে কর্নার করায় বাংলা একাডেমিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্প সাহিত্য নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। একুশে বইমেলা নিয়ে টালবাহানা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। কেন বইমেলা নির্বাচনের পরে হবে? বইমেলা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে হতে হবে। আমরা সারেঙ এর সভা থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি। নিরাপত্তার খোঁড়া অজুহাতে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য প্রাণের বইমেলা নিয়ে সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী রোববার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে সারেঙ সাহিত্য সভা আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। সারেঙ সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, কবি জাকির আবু জাফর, নাট্যকার কাজী আসাদ, কথাসাহিত্যিক জয়শ্রী দাস, সাংস্কৃতিক সংগঠক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক জাহানারা হক, সাংবাদিক নাসরীন গীতি, বাবুই সম্পাদক কাদের বাবু, কবি ও লেখক শাহ সিদ্দীক, টিমুনী খান রীনো, লেখক সরকার হুমায়ুন, সাংস্কৃতিক সংগঠক আনোয়ার পাহলভি, নাট্যনির্দেশক নুর হোসেন রানা, কবি ফরিদ সাইদ প্রমুখ ।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আমাদেরকে সত্যিকার মানুষ হয়ে উঠতে হবে। মানুষ হবার সাধনাটাই মুখ্য। কবি নজরুল আল মাহমুদসহ বরেণ্য কবিরা সেই সাধনা করেছেন। তিনি বলেন কবিতা আমাকে খুব টানে। গান আর কবিতা নিয়েই মগ্ন থাকি। নজরুলের গানে শুধু নয় আমার আরেক প্রিয় কবি আল মাহমুদের গানেও সুর দিয়েছি। আল মাহমুদকে নিয়ে আরও কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে।
কবি মাহবুব হাসান বলেন, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনায় যে সৌন্দর্য ছিল আমাদের সমাজ-প্রতিবেশে, আজ তা যেন শূন্যের কোঠায়। এই অন্ধ ও দূরদৃষ্টিহীনতার প্রতিবেশের নাগরিক আমরা। এই দেশ, সমাজ, সাংস্কৃতিক বিভেদ, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ দেশ আমরা চাই না। রাজনৈতিক সংকট দূর হোক, এটাই তো আমরা চাই। তিনি সত্যিকার সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
কাজী আসাদ বলেন, কবি আল মাহমুদ ছিলেন আমার সহকর্মী বন্ধু। আমরা এক সঙ্গে জাসাস করেছি। উনি সভাপতি ছিলেন আমি ছিলাম সহ সভাপতি। তার নামে করা কর্নারে দাড়িয়ে কথা বলতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।