প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম (ভিজিটর : ১৯)
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরাঞ্চলে ফসল হারানোর শোকে এক কৃষকের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিজের কষ্টে গড়া পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কৃষক আক্তার হোসেন (৬০)।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, আক্তার হোসেন প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানো ও ঋণ পরিশোধের একমাত্র ভরসা ছিল এই ফসল।
কিন্তু টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তার স্বপ্নের ক্ষেত ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়। নিজের চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, একজন কৃষকের কাছে ফসল শুধু আয় নয়, জীবনের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই স্বপ্ন ভেসে যেতে দেখা কতটা কষ্টকর—তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক জানান, হাওরের অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে অনেকেই ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে কৃষক পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা ও বৃষ্টিপাতে হাওরাঞ্চলের হাজারো হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে ইটনা ও অষ্টগ্রাম এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে তারা এখন দিশেহারা। আক্তার হোসেনের মৃত্যু সেই বাস্তবতারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি।
সব মিলিয়ে হাওরের এই সংকট শুধু ফসল হারানোর নয়, বরং কৃষকের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর জীবনের গভীর এক বেদনার গল্প হয়ে উঠেছে।