প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম (ভিজিটর : ৫৪)
দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এক মাসে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তীব্র গরম ও বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার মধ্যেও কেন্দ্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পুরো মাসে গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় (PLF) বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তাপপ্রবাহের সময় চাহিদা বেড়ে গেলে কিছুদিন কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেন্দ্রটির ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এক মাসে বারবার উচ্চমাত্রার উৎপাদন ধরে রেখে এটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এই কেন্দ্রটি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী। পরিবেশ সুরক্ষায় ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (FGD) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে নির্গত গ্যাস পরিবেশগত মান বজায় রাখে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়েও কেন্দ্রটি সফলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রকৌশল দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সফলতার প্রতিফলন।
কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটি অভিজ্ঞ বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির (NTPC) সহযোগিতায় প্রশিক্ষিত। এতে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে চরম আবহাওয়া ও উচ্চ চাহিদার সময়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি জাতীয় গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
সব মিলিয়ে, এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই অর্জন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আরও সুদৃঢ় করেছে।