ই-পেপার বাংলা কনভার্টার রবিবার ● ৩ মে ২০২৬ ২০ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার রবিবার ● ৩ মে ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নীলফামারীর খামারিদের কর্ম ব্যস্ততা
নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৪:০২ পিএম  (ভিজিটর : ২১)
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলার খামারগুলোতে এখন কোরবানির পশু প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। ঈদের প্রায় এক মাস আগ থেকেই জেলার খামারিরা গরু ও ছাগল লালন-পালন, পরিচর্যা এবং মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু বাজারে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর নীলফামারীতে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি খামারে মোট ২ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ হাজারের মতো পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানা গেছে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।

সরেজমিনে সদর উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পশুর খাদ্য হিসেবে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খৈল, ভুসি, কুঁড়া ও খড় ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গোসল এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

খামারিরা জানান, পশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভ্যাকসিন, ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও কোরবানির মৌসুমে ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী।

একজন খামারি জানান, তিনি এবার কয়েক ডজন গরু প্রস্তুত করেছেন এবং ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা খামারে এসে দাম-দর করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো বিক্রির আশা করছেন তিনি।

এদিকে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা ইতোমধ্যে খামার ঘুরে পশু দেখে আগাম দরদাম শুরু করেছেন। অনেক খামার থেকেই সরাসরি পশু বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে।

তবে খামারিদের মধ্যে একটি অংশ বিদেশি গরু আমদানি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাজারে আমদানি বেশি হলে দেশীয় পশুর দাম কমে যেতে পারে। তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্থানীয় খামারিরা বেশি লাভবান হবেন।

অন্যদিকে খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশীয় প্রাকৃতিকভাবে পালন করা পশুর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে এবং ক্রেতারা এসব পশুর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালন করায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি চলছে। খামারিদের প্রাকৃতিক খাদ্য ও নিরাপদ পদ্ধতিতে পশু লালনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এবছর কোরবানির হাটে পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে এবং নিরাপদ বেচাকেনার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ পশুর চিকিৎসার জন্যও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততা ও প্রস্তুতির চূড়ান্ত সময় চলছে। খরচ বাড়লেও ভালো বাজার দরের প্রত্যাশায় আশাবাদী খামারিরা।







সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com