প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ পিএম (ভিজিটর : ৩১)
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন কৌশল নিচ্ছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মিত সরবরাহের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশ ও উৎস থেকে তেল সংগ্রহের লক্ষ্যে দ্রুতই এই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এতে করে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ টন তেলবাহী ৭টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর-এ অবস্থান করছে এবং আরও একটি জাহাজ দেশের জলসীমার কাছে রয়েছে। একসঙ্গে এত জাহাজ আসায় অন্তত এক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, ফলে বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। তবে ডিজেল নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে, কারণ এটি পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি।
এদিকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে একাধিক জাহাজ থেকে তেল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে কিছু জাহাজকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতিতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া, মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সাড়া না পাওয়ায় উন্মুক্ত টেন্ডারের দিকেই ঝুঁকছে সরকার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে তেলের দাম ও সরবরাহ—দুটোই আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। তাই আগাম পরিকল্পনা ও বহুমুখী উৎস নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।