আমরা ভাবি পৃথিবী সম্পর্কে সবই যেন জানা হয়ে গেছে আমাদের। কিন্তু বাস্তবে এখনও নতুন নতুন আবিষ্কার আমাদের অবাক করেই চলেছে। সূর্য থেকে তৃতীয় এই গ্রহটি এখনও রহস্যে ভরা।
প্রতি বছর ঋতু বদলের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তন যেমন আমাদের নতুন করে মুগ্ধ করে, তেমনি বিজ্ঞানীরাও প্রতিনিয়ত পৃথিবী সম্পর্কে নতুন তথ্য জানছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব তথ্য আমাদের আগের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে।
পৃথিবী দিবসের সময় এসব আবিষ্কার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলো শুধু বিস্ময় জাগায় না, বরং আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার প্রেরণাও দেয়।
নিচে গত এক বছরে পাওয়া এমন ৯টি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হলো।
পৃথিবীর আরেকটি ‘চাঁদ’ আছে
সম্পূর্ণ চাঁদ না হলেও পৃথিবীর একটি ‘কোয়াসি-মুন’ বা অস্থায়ী উপগ্রহ পাওয়া গেছে, যার নাম পিএন ৭ (PN7)। এটি আসলে একটি গ্রহাণু, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তবে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে আমাদের সঙ্গে আছে এবং আরও কিছু সময় থাকবে।
সমুদ্রের গভীরে নতুন প্রাণজগৎ
প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬ মাইল গভীরে ‘হেডাল জোন’ নামে পরিচিত এলাকায় একটি নতুন বাস্তুতন্ত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। এখানে সূর্যালোক ছাড়াই নানা প্রাণী টিকে আছে। তারা শক্তির উৎস হিসেবে মিথেন ব্যবহার করে, যা জীবনের সীমা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে।
পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সোনা বের হচ্ছে
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবীর গভীর কেন্দ্র থেকে সোনা ও অন্যান্য ধাতু ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসছে। আগ্নেয়গিরির লাভার মাধ্যমে এই ধাতুগুলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে।
আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে উষ্ণতা বাড়ছে
গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিক অঞ্চলের জমাট মাটি দ্রুত গলছে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা আবার বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়াচ্ছে। এতে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হচ্ছে।
বিবার প্রাণী পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক
যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবার নদীতে বাঁধ তৈরি করে জলাভূমি তৈরি করে, যা কার্বন ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূগর্ভে ভূমিকম্প হচ্ছে
বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীরে, ম্যান্টল স্তরে ভূমিকম্পের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। আগে ধারণা করা হতো এতো গভীরে ভূমিকম্প হয় না। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
অ্যাসপেন গাছ বাঁচিয়েছে নেকড়ে
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কে দেখা গেছে, নেকড়ে ফিরে আসার পর অ্যাসপেন গাছ আবার বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, নেকড়ে হরিণের সংখ্যা কমিয়েছে, ফলে গাছগুলো বাঁচার সুযোগ পেয়েছে।
ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ থেকে জীবনের সৃষ্টি হতে পারে
গবেষণায় দেখা গেছে, পানি ভাঙার সময় তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ বা ‘মাইক্রোলাইটনিং’ জীবনের সূচনায় ভূমিকা রাখতে পারে। এটি নতুন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরিতে সহায়ক।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি এগিয়ে গেছে
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি কয়লাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়েছে। এটি পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন।
এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে, পৃথিবী এখনও আমাদের জন্য নতুন নতুন রহস্য উন্মোচন করছে। একই সঙ্গে এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই গ্রহকে রক্ষা করা কতটা জরুরি।
সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট