প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম (ভিজিটর : ১৯৪)
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আধুনিক এআই মডেল মানুষের তুলনায় দ্রুত ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। ‘কিংস কলেজ লন্ডন’-এর অধ্যাপক কেনেথ পেইন পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই ও অন্যান্য এআই মডেল ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে।
গবেষণার প্রধান ফলাফল অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে ভয় বা নৈতিক দ্বিধা থাকা সত্ত্বেও এআই মডেলগুলো পারমাণবিক অস্ত্রকে কৌশলগত বিকল্প হিসেবে দেখছে। অধ্যাপক পেইন বলেন, এরা সাধারণত পারমাণবিক ব্যবহারের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতির হিসাব করে এবং যৌক্তিক বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে।
এক মহড়ায় দেখা গেছে, অ্যানথ্রপিকের ক্লাউড মডেল প্রায় ৬৪% খেলায় পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, ওপেনএআই মডেলগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইনের চাপ পড়লে বারবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে এগিয়ে গেছে। গুগলের জেমিনাই মডেল শুধু চারটি নির্দেশের পরেই পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক হামলার হুমকি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে এমন সময়ে যখন অ্যানথ্রপিক ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এআই ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই জানিয়েছেন, তারা পেন্টাগনের অনুরোধে সম্পূর্ণ অটোনমাস অস্ত্রের ওপর নজরদারি সরানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, আধুনিক এআই ক্রমেই কৌশলগত সিদ্ধান্তে ভূমিকা নেওয়ায় পারমাণবিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে এ ধরনের হুমকি সাধারণত পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়ে বরং পাল্টা উত্তেজনা ও কৌশলগত চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
গবেষণাটি এখনও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পূর্ণ পর্যালোচিত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যানথ্রপিক, গুগল ও ওপেনএআই-এর কাছ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।