ই-পেপার বাংলা কনভার্টার মঙ্গলবার ● ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার মঙ্গলবার ● ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



এক তরুণীর কোয়ান্টাম স্বপ্ন ও বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত
ভোরের ডাক রিপোর্ট:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৪:২১ পিএম  (ভিজিটর : ২২৬২)
দর্শনে বলে, তথ্যই শক্তি। আর আজকের পৃথিবীতে এই শক্তির রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে সাইবার নিরাপত্তা। ঠিক সেই জায়গাটিকেই ভিত্তি করে নিজেদের গবেষণায় অগ্রণী হয়েছেন বাংলাদেশের এক তরুণী শর্মিলা রানী দাস, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু করলেও, আজ তিনি দেশের প্রযুক্তি গবেষণাক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন।

শর্মিলা এবং তার দল তৈরি করেছেন একটি Quantum-Secure Hybrid Blockchain System যা ভবিষ্যতের ভয়ংকর প্রযুক্তি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হুমকি থেকেও তথ্যকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম। এই গবেষণা কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আহসান উল্লাহ।

শুধু অ্যাকাডেমিক প্রজেক্ট নয় এই উদ্ভাবন বাস্তব জীবনেই প্রাসঙ্গিক। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, ভ‚মি রেকর্ড, শিক্ষা সনদ, এমনকি কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এটি প্রয়োগ করা সম্ভব। শর্মিলার ডিজাইনে SPHINCS+ দিয়ে প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালি স্বাক্ষরিত হয়, আর NTRU দিয়ে সেই ডেটা কোয়ান্টাম-রেজিস্ট্যান্টভাবে এনক্রিপ্ট করা হয়।

এই উদ্ভাবনের জন্য শর্মিলা রানী দাস ও তার দল BTRC Idea Innovation Competition ২০২৫ এ জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ৩২টি উদ্ভাবনের মধ্যে জায়গা করে নেন। এই প্রতিযোগিতা দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিভিত্তিক চিন্তাভাবনাগুলোকে তুলে আনার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। বিচারকদের মতে, শর্মিলার প্রজেক্টটি ছিল, সাধারণ বøকচেইনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে দেশের তথ্য পরিকাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপ নির্ধারণে সক্ষম একটি সাহসী প্রয়াস।

তবে এই গল্প কেবল একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গল্প নয়। এটি একজন তরুণীর নিরলস প্রচেষ্টা, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের গল্প। একটি নতুন প্রযুক্তির প্রতি তার ভালোবাসা, আর সেই প্রযুক্তিকে দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলার দায়বদ্ধতা সবই এই পথচলায় প্রতিফলিত হয়েছে।

শর্মিলা বলেন, আমি কখনো প্রযুক্তিকে কেবল কোডিং বা স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার জিনিস হিসেবে দেখিনি। প্রযুক্তি আমার কাছে দায়িত্ব যা দিয়ে আমি আমার সমাজকে, আমার দেশকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারি। এই প্রজেক্টটি সেই স্বপ্নেরই প্রথম ধাপ।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত। শর্মিলা চান, বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টর যাতে post-quantum secure হতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে। সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই সিস্টেম বাস্তবায়নের স্বপ্ন তার চোখে।

এই গল্প আমাদের জানিয়ে দেয় তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ, যদি আমরা তাদের চিন্তাকে মূল্য দিই, তাদের হাতে সুযোগ তুলে দিই। আর সেই ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল নাম শর্মিলা রানী দাস।







সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com