ই-পেপার বাংলা কনভার্টার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে অস্থিরতা কাটেনি
খুলনা থেকে হাসান চৌধুরী
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম  (ভিজিটর : ৩১)
দক্ষিণাঞ্চলের দৃষ্টিখ্যাত খানজাহান আলী থানাধীন বাদামতলায় অবস্থিত খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। হাসপাতালটি পদ্মার এপারের সর্ববৃহৎ চক্ষু রোগের আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র। সকল শ্রেণি পেশার মানুষের চোখের চিকিৎসায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল দ্বারা পরিচালিত হয় এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসায় অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে দীর্ঘদিনের।১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গত বছর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সর্বমোট চোখের অপারেশন হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৪টি। এরমধ্যে চোখের ছানি অপারেশনের সংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৩। বাকী ৫১ হাজার ৬১১ জনের চোখের অন্যান্য অপারেশন করা হয়েছে। গত বছর শুধুমাত্র ১৯ হাজার ৯৪৩ জন রোগীর চোখ অপারেশন করা হয়েছে। এরমধ্যে ছানি অপারেশন ১৭ হাজার ৭৮১টি। বাকী ২ হাজার ১৬২টি অন্যান্য অপারেশন। চলতি বছর ২০ হাজারের অধিক রোগীর চোখ অপারেশনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।কিন্ত গত দু’সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলোশ্রুতিতে বিঘ্নিত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে শিশুদের চক্ষু অপারেশন। সম্প্রতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী দায়িত্ব নিলেও গঠিত হয়নি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড কমিটি। বিভ্রান্তি রয়েছে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)’র সাবেক জেলা কমিটির সভাপতি আলোচিত ডা. রফিকুল হক বাবুল এখনও নিজেকে বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করছেন। অভিযোগ রয়েছে ৫ আগস্টের পর নীতিমালা ভঙ্গ করে চেয়ারম্যান বনে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের নীতিমালা ভঙ্গসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত অনেকেরই তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কাজের চেয়ে ওটি নিয়ে ব্যস্ত থাকাসহ রোগীদের চোখ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হন জামায়াত নেতা মুন্সী মইনুল ইসলাম। এরপর থেকে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে তার এবং অপর জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম কুদ্দুসের নির্দেশনা মোতাবেক। অভিযোগ রয়েছে, মুন্সি মইনুল ইসলাম অনুগতদের নিয়ে হাসপাতালের অর্থ ব্যয়ে সকালের নাস্তা করতেন। প্রভাব খাটিয়ে সাবসিটি দিয়ে রোগীর চক্ষু অপারেশনের সুপারিশ করতেন। দুইনেতা সংসদ নির্বাচনে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বসে দাঁড়িপাল্লার লিফলেট বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কর্মচারীদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে চাকুরীচ্যুত করারও হুমকি দেয়া হয়।

১৩ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শনে আসেন সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি। এ সময় তার সাথে থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন ডা. রফিকুল হক বাবুল। এরপর অপ্রত্যাশিতভাবে বোর্ডের কমিটি ভেঙ্গে দেন এমপি লবি। চেয়ারম্যান হওয়ার প্রসঙ্গে তার নাম উঠলে ডা. রফিকুল হক বাবুল তাকে ওয়েলকাম জানান। এরপর আলী আসগরর লবী দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর থেকে ডা. রফিকুল হক বাবুল হাসপাতালে আসেননি।

এ পরিস্থিতিতে গত দু’সপ্তাহের অধিক সময় ধরে হাসপাতালে নানান অস্থিরতা বাড়তে থাকে। অস্থিরতা থেকে বাদ নেই কর্মরত নার্স, প্যারামেডিক্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চিকিৎসকরাও।







সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com