প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ এএম (ভিজিটর : ১৩৭)
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন: ২৯ এপ্রিল ভোট, তার আগেই সীমান্তে কড়াকড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সকল যাত্রী যাতায়াত আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বেনাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যান্স ল্যান্ড ও ইমিগ্রেশন ভবনে কয়েকশ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন।
আজ সোমবার সকাল থেকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এতে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া আসা নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আটকে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ
যশোরের শার্শা উপজেলার ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী আব্দুল হালিম বলেন, "কলকাতায় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল আজ। গতকাল রাতেও খোঁজ নিয়েছি, কেউ কিছু বলেনি। এখন এসে শুনি বর্ডার বন্ধ। আমার মতো রোগীরা এখন কোথায় যাবে?
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, ভারতের পক্ষ থেকে আগে কোনো চিঠি বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ সকাল থেকে যাত্রী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় ৩ শতাধিক যাত্রী বেনাপোলে আটকা পড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন।"
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন মৌখিকভাবে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ আমরা পাইনি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"
যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, নির্বাচনের কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ বন্ধ করায় যাত্রীদের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়া উচিত।
কবে নাগাদ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে পেট্রাপোল কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষে ১ মে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।