প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ পিএম আপডেট: ২০.০৪.২০২৬ ৩:২৬ পিএম (ভিজিটর : ৯৮)
রান্নায় ব্যবহৃত পোড়া তেল পুনরায় ব্যবহার না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্প্রতি বিএফএসএ এবং মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব’’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
চেয়ারম্যান বলেন, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পোড়া তেলের ব্যবহার বর্জন করা অত্যাবশ্যক। তিনি মুয়েন্জার বাংলার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং পোড়া তেল যাতে মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য তাদের কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি জানান, শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যান, যার ৪ শতাংশের পেছনে দায়ী এই ট্রান্স ফ্যাট। রক্তনালিতে জমে এটি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০২১ সালে প্রণীত প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২% নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সয়াবিন তেলের ১১টির মধ্যে ৭টি এবং ডালডার ৯৫টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে। বাটার ও মার্জারিনের নমুনাতেও উচ্চমাত্রার ট্রান্স ফ্যাট পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী ড. আহমেদ খায়রুল আবরার সতর্ক করেন যে, কোনো তেল ২-৩ বারের বেশি ব্যবহার করলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে। সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা পরামর্শ দেন যে, এই পোড়া তেল খাদ্যে ব্যবহার না করে তা থেকে পরিবেশবান্ধব বায়োডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন—উভয়ই নিশ্চিত হবে। বিএফএসএ সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও উপপরিচালক মোঃ রুহুল আমিনও পোড়া তেল রোধে তাদের মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।