ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাঁর সেই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি দেশটির নির্বাচন কমিশন। বুধবার কমিশন জানায়, ভোটের ফলাফল যাচাইয়ে নির্বাচনী অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ’ জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে দেশটির দুটি আরব রাজনৈতিক দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম। নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে দল দুটি পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ফলাফলের পর আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে একাধিকবার ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের দিন নগদ অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং আইনপ্রণেতাদের কাতার থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ৯ হাজার ৬৯টি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জমা দেওয়া অভিযোগও পর্যালোচনা করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। কিন্তু নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল ভোটারদের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন।
এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর আগে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান আরব দলগুলোর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাবেক সামরিক প্রধান ও ‘চেঞ্জ’ জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট লিকুদ পার্টির অবস্থানকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। মধ্যপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোকে একত্র করে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন আইজেনকোট। তাঁর আশঙ্কা ছিল, এমন সংঘাত নেতানিয়াহুকে ঐক্য সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারে কিংবা নতুন নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় বাড়াতে পারে।