
নির্বাচনে এল-সাঈদ পেয়েছেন ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সের ঝুলিতে পড়েছে ১৯ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ ভোট। ফলে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯১ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ডেমোক্র্যাট এই প্রার্থী।
এল-সাঈদের এই জয়কে ডেমোক্র্যাট দলের প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় মিশিগানের আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে এল-সাঈদের জয়ে সেই শঙ্কার অবসান হয়েছে।
৪২ বছর বয়সী এল-সাঈদ আগে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব সীমিত করা এবং সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার প্রচারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি।
অন্যদিকে, ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স ছিলেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রজার্স প্রচারে এল-সাঈদকে কট্টরপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এমনকি তাকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেন এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এল-সাঈদ।
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়টিও প্রচারে তুলে ধরে এল-সাঈদের বিরুদ্ধে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন রজার্স। তবে ভোটের ফলাফলে শেষ পর্যন্ত মিশিগানের আসনটি ধরে রাখে ডেমোক্র্যাটরা। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকে রজার্সের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রাখা বিষয় হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।