রাস্তায় বাড়ছে যৌনবাণিজ্য, ক্রেতাদের শাস্তির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

জাপানের রাজধানী টোকিওর কাবুকিচো এলাকায় প্রকাশ্যে যৌনসেবা বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকের আনাগোনা বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাটির পরিচিতি ছড়িয়ে

2026-11-03T15:51:44+00:00
2026-11-03T15:55:35+00:00
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রাস্তায় বাড়ছে যৌনবাণিজ্য, ক্রেতাদের শাস্তির দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম  আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ৩:৫৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
জাপানের রাজধানী টোকিওর কাবুকিচো এলাকায় প্রকাশ্যে যৌনসেবা বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকের আনাগোনা বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাটির পরিচিতি ছড়িয়ে পড়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যৌনসেবা বিক্রেতাদের পাশাপাশি ক্রেতা পুরুষদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

টোকিওর শিনজুকু এলাকার কাবুকিচো রাতের বিনোদন ও পর্যটনের জন্য সুপরিচিত। ‘নিদ্রাহীন শহর’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় রাতভর খোলা থাকে খাবারের দোকান, পানশালা ও কারাওকে কেন্দ্র। তবে ঝলমলে আলোর আড়ালে বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে নারীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

জাপানে দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যৌনসেবা চালু রয়েছে। তবে করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরাসরি ক্রেতা খোঁজার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়েছে। জাপানি ভাষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বলা হয় ‘তাচিনবো’, যার অর্থ দাঁড়িয়ে থাকা।

কাবুকিচোতে এভাবে কতজন নারী যৌনসেবা দেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। তবে গত বছর এলাকার একটি পরিচিত পার্কের আশপাশে যৌনসেবা দেওয়ার অভিযোগে ১১২ নারীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাপান আন্তর্জাতিক যৌন পর্যটনের গন্তব্য হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আইনপ্রণেতা ও অধিকারকর্মীদের একটি অংশ। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান আইনে যৌনসেবা বিক্রির ক্ষেত্রে নারীদের শাস্তির বিধান থাকলেও ক্রেতা পুরুষেরা সাধারণত একই ধরনের শাস্তির মুখে পড়েন না। এতে ক্রেতাদের মধ্যে আইনি পরিণতির ভয় কম থাকছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ক্রেতাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি

১৯৫৬ সালের জাপানের পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ আইনে জনসমক্ষে অর্থের বিনিময়ে যোনিপথে যৌনমিলনের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার ইয়েন জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যৌনসেবা কিনতে যাওয়া পুরুষদের জন্য একই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

কাবুকিচোতে যৌনসেবা নিতে আসা বিদেশি পুরুষের সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা এলাকাটি সম্পর্কে জানতে পারছেন। পাশাপাশি স্মার্টফোনের অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে ভাষাগত বাধা পেরিয়ে নারীদের সঙ্গে সরাসরি দর-কষাকষি করছেন। নিয়ন্ত্রিত যৌনসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি ক্রেতাদের প্রবেশে অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ থাকলেও রাস্তায় সে ধরনের বাধা তুলনামূলক কম।

কাবুকিচো এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা তরুণীদের সহায়তায় কাজ করা অলাভজনক সংস্থা রেসকিউ হাবের প্রধান আরাতা সাকামোতো বলেন, এ পরিস্থিতি জাপানের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করছে, যা দুঃখজনক। তবে তাঁর মতে, এটি বিদেশিদের সমস্যা নয়; বরং জাপানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

সাকামোতোর মতে, যৌনসেবার ক্রেতাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান ব্যবস্থায় পুরুষেরা জানেন যে তাঁদের আইনি শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা কম। এ সুযোগে কেউ কেউ যৌনকর্মীদের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেন, এমনকি যৌন সম্পর্কের দৃশ্য ধারণ করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে ক্রেতাদের শাস্তির বিধান চালু করার সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন সাকামোতো। তাঁর আশঙ্কা, এতে রাস্তায় প্রকাশ্য যৌনবাণিজ্য আরও গোপন স্থানে চলে যেতে পারে, যা নারীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াবে।

গত সেপ্টেম্বরে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল আইন পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বর্তমান আইনকে ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে যৌনসেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার কথা বলা হয়। তবে ক্রেতাদের জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়নি। প্রতিবেদনটি বর্তমানে বিচার মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় রয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য কাজুনোরি ইয়ামানোইও আইন পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যৌনসেবা কেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও জাপানে ক্রেতারা অনেকটাই দায়মুক্ত থাকছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে টোকিওতে তুলনামূলক কম খরচে তরুণীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রচারিত হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাসিন্দাদের অসন্তোষ, বদলাচ্ছে অবস্থান

কাবুকিচোর বাসিন্দাদের মধ্যেও প্রকাশ্য যৌনবাণিজ্য নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড এলাকার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দাদের সংগঠনগুলো নিয়মিত টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি জাপানি ও ইংরেজি ভাষায় প্রচারের মাধ্যমে রাস্তায় যৌনসেবা বিক্রির বিরুদ্ধে সতর্ক করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তার মতে, এসব উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাচ্ছে না। যৌনসেবা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং গ্রেপ্তার অভিযানের পর যৌনসেবা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া নারীদের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর কাবুকিচোতে ৭৫ নারীকে গ্রেপ্তারের পর অনেকে শিনজুকু স্টেশনের কাছাকাছি লাভ হোটেলের প্রবেশপথসংলগ্ন সরু গলিতে অবস্থান নিতে শুরু করেন। গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের মধ্যে নয়জন কিশোরীও ছিল।

অধিকারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় এক ঘণ্টার যৌনসেবার গড় মূল্য প্রায় ১৫ হাজার ইয়েন, যা প্রায় ৯৫ ডলারের সমান। তুলনামূলক কম বয়সী বা আকর্ষণীয় নারীদের ক্ষেত্রে বেশি অর্থ নেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি। সুরক্ষা ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আইন পরিবর্তনের বিতর্কে এখন বড় প্রশ্ন—যৌনবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে শুধু বিক্রেতাদের শাস্তি দেওয়াই যথেষ্ট, নাকি ক্রেতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য আইন সংস্কারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: