মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের অগ্নিপরীক্ষা, কংগ্রেস হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আজ মঙ্গলবারের ভোটে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন কি না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

2026-11-03T10:32:12+00:00
2026-11-03T10:32:12+00:00
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের অগ্নিপরীক্ষা, কংগ্রেস হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ এএম 
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের অগ্নিপরীক্ষা, কংগ্রেস হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আজ মঙ্গলবারের ভোটে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন কি না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সর্বশেষ জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে রিপাবলিকানরা। সিনেটেও দলটির অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। মূল্যস্ফীতির হার কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন অনেকে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাবারের খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন মার্কিন নাগরিকেরা। এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন ভোটারদের একটি অংশ। বিশেষ করে শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ থাকলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক চিত্র রয়েছে। বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কর্মসংস্থানে যুক্ত মানুষের সংখ্যাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে।

তবে এসব ইতিবাচক সূচক ভোটারদের অসন্তোষ কমাতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমলেও পণ্য ও সেবার দাম এখনো বেশি। ফলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক পরিবার। জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবের অবনতি হয়েছে।

ট্রাম্প এবারের নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী নন। তবু তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ভোটের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভোটারদের বড় একটি অংশের মধ্যে এসব বিষয়ে বিরক্তি ও হতাশা রয়েছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে শেষ মুহূর্তের প্রচার

নির্বাচনের আগের দিন সোমবারও প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে রিপাবলিকানদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সমর্থন আদায় করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।

ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় প্রচার চালান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত পরিকল্পনার কারণে স্থানটির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে।

এর আগে রোববার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি।’ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে দেবে।

অন্যদিকে, প্রচারের শেষ পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারাও। টেক্সাসে দলটির আলোচিত সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং কানসাসের প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের নির্বাচনী প্রচার।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের আভাস

সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা প্রবল। অন্যদিকে, বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও পাবে বিরোধী দল। এতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ না থাকলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে ট্রাম্পকে। মূল্যস্ফীতির চাপ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত—সব মিলিয়ে তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছর কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সাত অঙ্গরাজ্য

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে টেক্সাস ও কানসাসে দলটির প্রার্থীদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট নির্বাচনে জয়ও বিরল। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এবং কানসাসে ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের বর্তমান আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। শুরুতে এই সমীকরণ কঠিন মনে হলেও সাম্প্রতিক জরিপে পরিস্থিতি বদলের আভাস মিলেছে।

কানসাস, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আলাস্কায় তাঁদের ব্যবধান সামান্য। অন্যদিকে, আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানেও দলটির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ প্রায় দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

তবে মিশিগানের জরিপটি করা হয়েছিল দলটির অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে আসার আগে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে

মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটের দিন সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নিয়ে কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বিভাগটি।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। ফলে তাঁদের ভোট দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই।

চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চেয়েছে বিভাগটি। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই বলেও যুক্তি দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

এদিকে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের সঙ্গে একই নামের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট নেত্রীর অবস্থান বদলে চাঞ্চল্য

মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাত পর্যন্তও তাঁর এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা অনেকের কাছে অকল্পনীয় ছিল।

এর আগে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন তুলে নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বারবার তা নাকচ করেছিলেন তিনি।

এমনকি গত সপ্তাহে তাঁর কয়েকজন সহযোগী রজার্সকে সমর্থন না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজনকে খুদে বার্তায় স্টিভেন্স লিখেছিলেন, ‘আপনারা কেন ভাবছেন যে আমি এমনটা করব?’

গত শনিবার মধ্যরাতেও নিজের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিত্রকে তিনি জানিয়েছিলেন, এল-সায়েদের প্রতিই সমর্থন বহাল থাকবে। কিন্তু পরদিন সকালে অবস্থান পাল্টে ফেলেন এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী। সাংবাদিকদের কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানিয়ে রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।

স্টিভেন্সের আকস্মিক এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের পক্ষে ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: