যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন দেশটির ভোটাররা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটি এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরু ও শেষ হবে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশে ভোট শুরুর সময় বিকেল থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে পরদিন দুপুরের দিকে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সময় কখন ভোট শুরু হবে, কখন শেষ হবে এবং ফল জানা যাবে কখন?
বাংলাদেশ সময় কখন শুরু হবে ভোটগ্রহণ?
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ শুরুর জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো একক সময় নির্ধারিত নেই। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র খোলা ও বন্ধের সময় ঠিক করে।
ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় খুলবে সেখানকার ভোটকেন্দ্র।
নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট ও কেনটাকিতে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোট শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় তখন বিকেল ৫টা।
জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনায় শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। মিশিগানে ভোটকেন্দ্র খুলবে সন্ধ্যা ৬টায়।
কখন শেষ হবে ভোট?
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের সময়ের পার্থক্যের কারণে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় তখন বুধবার ভোর ৫টা।
মিশিগানের কিছু এলাকায় রাত ৮টায় এবং কানসাসের অধিকাংশ এলাকায় সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় উভয় ক্ষেত্রেই বুধবার ভোর ৬টা।
আইওয়াতে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সময় তখন বুধবার সকাল ৭টা।
সবশেষে আলাস্কার পশ্চিমাঞ্চলের আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কিছু ভোটকেন্দ্র স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টায় বন্ধ হবে। বাংলাদেশ সময় তখন বুধবার দুপুর ১২টা।
কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল?
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। তবে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তখন বুধবার ভোর।
ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা ও ফল প্রকাশ শুরু করবেন। কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাব আসতে থাকলে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ (এপি) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে আসনভিত্তিক বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই কোনো কোনো আসনের ফল অনুমান করা সম্ভব হলেও চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হতে সময় লাগে।
বিশেষ করে যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম, সেগুলোর ফল জানতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ডাকযোগে আসা ব্যালট, অস্থায়ী ব্যালট এবং বিশেষ ভোট গণনার কারণেও ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়।
তাই বুধবার সকালেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতের নির্বাচনেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লেগেছে।
কীভাবে ভোট দেন মার্কিন ভোটাররা?
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা ডাকযোগে, আগাম ভোটের মাধ্যমে অথবা নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট দেওয়ার নিয়ম ও সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে।
নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট, প্রভিশনাল ব্যালট এবং অন্যান্য বিশেষ ভোট গণনা চলতে থাকে। এ কারণে প্রাথমিক ফলের পরও ভোটের হিসাব হালনাগাদ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যায়।
কোন আসনগুলোর দিকে নজর থাকবে?
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চারটি আসন বাড়াতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতেও তাদের কয়েকটি আসনে বাড়তি জয় প্রয়োজন।
বিশেষ নজর থাকবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে—
মিশিগান: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াই আলোচনায় রয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও নির্বাচনী সমীকরণে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্লোরিডা: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনের মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি।
জর্জিয়া: ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্স।
মেইন: রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিপক্ষে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার: ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিস পাপাসের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জন সুনুনু।
নর্থ ক্যারোলিনা: সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের ফল শুধু কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারণ করবে না, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে। তবে সেই চিত্র পরিষ্কার হতে ভোটের রাত পেরিয়ে আরও সময় লাগতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)