
বুধবার সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে সড়কের ওপর আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ, শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে হেমায়েতপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকেরা। কিছুক্ষণ পর তাঁরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে একত্র হয়ে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শ্রমিকেরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক বলেন, ‘লাফিয়ে লাফিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বেতন বাড়ছে না। ন্যায্য দাবি করলেই আমাদের ওপর চড়াও হয়।’
শ্রমিকদের এই অবরোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কারখানার মালিকদের সমাধানের পথ বের করতে হবে। বল প্রয়োগ করে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান নূর হেমায়েতপুরে মহাসড়ক অবরোধ ও শ্রমিক বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায় নিউ এজ গ্রুপের দুটি এবং হা-মীম গ্রুপের একাধিক কারখানার শ্রমিকেরাও বুধবার সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হন। তবে তাঁরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব কারখানার শ্রমিকেরা বাইরে বেরিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলেও একই দাবিতে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। দুই ঘণ্টার বেশি সময় কর্মসূচি পালনের পর তাঁরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। তবে এক দিনের ব্যবধানেই বুধবার সকালে নতুন করে আন্দোলনে নামায় শিল্পাঞ্চলটিতে শ্রমিক অসন্তোষ আবারও ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।