বরগুনার আমতলীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁদের জামাতা ও মামলার অপর আসামি মো. সবুজ মৃধা (৩২) পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী এলাকায় সাবিনের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোছা. কহিনুর (৪০) ও তাঁর স্বামী মো. সেলিম প্যাদা (৫৫)। পুলিশ জানায়, পলাতক সবুজ মৃধা তাঁদের মেয়ের জামাতা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে পূর্ব চুনাখালী এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় সেলিম প্যাদা ও তাঁর স্ত্রী কহিনুরকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সবুজ মৃধা পালিয়ে যান।
অভিযানকালে কহিনুরের পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে কসটেপ ও পলিথিনে মোড়ানো আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।
সব মিলিয়ে অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাদক প্যাকেটজাতকরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বরগুনা জেলাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে মাদক কারবার চালানো ব্যক্তিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারে জড়িত কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার দুজনের পাশাপাশি পলাতক আসামি সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আমতলী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।