কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও এক রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. লোকমান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলায় দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কাঠালতলী পাড়ার ছড়ার পাশে বাঁশতলা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
মহেশখালী থানা-পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানের তত্ত্বাবধানে পিএসআই মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বাঁশতলা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অন্যরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেলেও লোকমানকে আটক করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে আসার সময় তাঁর সহযোগী ও পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, লোকমানের দেহ তল্লাশি করে তাঁর পরিহিত লুঙ্গির বাঁ কোমরের ভাঁজ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও লাল রঙের এক রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অস্ত্র ও কার্তুজ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার লোকমান উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোনাছড়ি এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে।
থানা-পুলিশের রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাইয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লোকমানের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারামারি, চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ১১টি মামলায় এজাহারভুক্ত বা অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হিসেবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।