দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৯০ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি, আর অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০৮ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪৩টি কলেজ থেকে ১৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। চলতি বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টি কলেজে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৯০ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নীলফামারীতে। এ জেলার ১২টি কলেজ থেকে ১১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এ ছাড়া কুড়িগ্রামের ৯টি কলেজের ৭০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজের ৩৮ জন, লালমনিরহাটের ৬টি কলেজের ১৮ জন, দিনাজপুরের ৬টি কলেজের ১৭ জন, রংপুরের ৩টি কলেজের ১৭ জন, পঞ্চগড়ের ২টি কলেজের ১০ জন এবং গাইবান্ধার ২টি কলেজের ৩ জন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
দিনাজপুর জেলার ছয়টি কলেজ থেকে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট কলেজ ও সনকা আদর্শ কলেজ, ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিরামপুর উপজেলার বেপারীতলা আদর্শ কলেজ এবং হাকিমপুর উপজেলার পাউশগাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
৪৯টি কলেজের মধ্যে নীলফামারীর ভেড়ভেরি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এক বা একাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস করা কলেজ ও অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।