সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম। দুই বছরের সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক কলেজছাত্রী ও চীনা নাগরিক বলে পরিচিত এক যুবক। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন ওই যুবক। বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে নবদম্পতির বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।
ঘটনাটি ঘটেছে সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে। তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাঁরা আপাতত লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও। বয়স ২৫ বছর। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২০) ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সালথার নকুলহাটি।
তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় একপর্যায়ে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়।
পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ওই যুবকের ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। চীনা যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন আশপাশের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়।
তবে শনিবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতির দেখা মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে তাঁদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাঁরা দুজনই চীনে চলে যাবেন।
এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শনিবারই লোকমুখে জানতে পেরেছেন। তিনি ওই বাড়িতে যাচ্ছেন; পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
তবে ওই যুবকের নাগরিকত্ব, পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।