কৃষিপ্রধান জেলা নওগাঁয় অর্থনৈতিক মন্দা, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মৌসুমি কর্মসংস্থানের সংকটে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আশ্বিন-কার্তিক মাসে কৃষিকাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমজীবী মানুষকে কর্মহীন সময় পার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও বাড়েনি আয়, ফলে কমছে তাদের ক্রয়ক্ষমতা।
দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁর অর্থনীতি মূলত কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসানির্ভর। জেলায় পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা না থাকায় কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগও সীমিত। কৃষিকাজে মৌসুমি বিরতি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সমস্যায় জীবিকা নির্বাহের চাপ আরও বাড়ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর উপার্জনের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায়।
স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে কাজ না থাকায় অনেক দিনমজুরকে বেকার থাকতে হয়। মাঝেমধ্যে কাজ মিললেও তা দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ধারদেনা করে কিংবা ব্যয় কমিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে অনেককে।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের কালাচিতা গ্রামের ভ্যানচালক আইনুদ্দিন বলেন, বর্তমানে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া হয়। আমি দিন আনি, দিন খাই। আমার পরিবারের সদস্য পাঁচজন। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একই সংকটের কথা জানান নিয়ামতপুর উপজেলার কাঠালবাড়ি গ্রামের দিনমজুর খবির। তিনি বলেন, এখন মাঠে কোনো কাজকর্ম নেই। মাঝেমধ্যে জমিতে কীটনাশক ছিটানোর কাজ পাওয়া যায়। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের চাপে রয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরাও। মহাদেবপুর উপজেলার আখিরাপাড়া গ্রামের কৃষক রোকনুজ্জামান (নাজু) বলেন, তাঁর আট বিঘা জমি রয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা লাভ হয়। সব মিলিয়ে ছয় মাসে প্রায় ৪৮ হাজার টাকা আয় হলেও তা দিয়ে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন।
তিনি বলেন, ধানের দামও কম, আবার জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। এই আয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিনির্ভর নওগাঁয় মৌসুমি বেকারত্ব কমাতে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ এবং শ্রমজীবী মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও কাজের অনিশ্চয়তার চাপে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।