
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জের বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের মোহাম্মদ সাহানের ছেলে ইয়াসিন (২২) ও একই গ্রামের মোজাহারের ছেলে বাবলু (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলফি পরিবহনের একটি বাস পাটুরিয়া থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। একই সময় ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে বরঙ্গাইল হাটের দিকে যাচ্ছিল একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসটি ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই এক যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত অপর যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ইজিবাইকের চালকও গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাসের কারণে বারবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এর আগে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এরপরও পরিবহনটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক ভিডিও বার্তায় আপাতত সেলফি পরিবহনের চলাচল বন্ধ রাখার আশ্বাস দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সেলফি পরিবহনের বাসের কারণে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে পরিবহনটির বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। আজকের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ওসি আরও বলেন, “আমরা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আপাতত পরিবহনটির চলাচল বন্ধ থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জনগণ আশ্বস্ত হয়ে অবরোধ তুলে নিয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে সেলফি পরিবহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”