জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ সুজনের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালবেলার প্রতিনিধি আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই বিএনপি নেতা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিক।
অভিযোগপত্র ও আবু সাঈদ সুজনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আকন্দ সোহাগ তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আকন্দ সোহাগ ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারের হুমকি দেন। পরে অভিযুক্তের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আবু সাঈদ সুজনকে নিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
আবু সাঈদ সুজন বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আকন্দ সোহাগ বলেন, আমি তাঁর (আবু সাঈদ সুজন) বাড়ি চিনিই না। সেখানে চাঁদাবাজির জন্য কেন যাব? আমি শুধু তাঁর বক্তব্য ফোনের মাধ্যমে নিয়েছিলাম, যার প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে আমি বিচলিত নই।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, প্রায় তিন মাস আগে আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ উঠেছিল। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্তে তাঁকে সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।