সাতকানিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, বালুর পয়েন্ট দখল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নে পাওনা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক কারবারের অভিযোগ ছড়ানো এবং

2026-10-22T18:58:50+00:00
2026-10-22T18:58:50+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সাতকানিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, বালুর পয়েন্ট দখল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নে পাওনা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক কারবারের অভিযোগ ছড়ানো এবং বালুর পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গিলমান আকবর নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, হামলা ও সম্পদ নষ্টের আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন অপর পক্ষের সদস্যরা।

গত ২০ অক্টোবর চরতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহ পাড়া সোনাইছড়ি এলাকায় এ বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পাওনা টাকা, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবং বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ।

দুবাইপ্রবাসী গিয়াসউদ্দিনের দাবি, একই এলাকার প্রবাসী সালমান আকবরের কাছে তাঁর প্রায় ৪০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সম্প্রতি সুইপুরা বাজারে ওই টাকা চাইতে গেলে সালমান আকবর, রোহান ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন।

গিয়াসউদ্দিনের অভিযোগ, এর পরদিন রাতে তাঁর ছোট ভাই রিয়াজউদ্দিন সুইপুরা বাজারে গেলে তাঁকেও কাঠ ও কাঠের তক্তা দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে তাঁকে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে তুলে বাজারের একটি বেঞ্চে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে ‘ইয়াবা কারবারি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গিয়াসউদ্দিন ও রিয়াজউদ্দিনের পরিবারের দাবি, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের পরিচালিত বালুর পয়েন্টে ডাম্পার নিয়ে বালু তুলতে যান গিলমান আকবর ও তাঁর লোকজন। খবর পেয়ে রিয়াজউদ্দিন সেখানে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে গিলমান আকবর গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের সময় একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে রিয়াজউদ্দিনকে স্থানীয় কয়েকজন মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পানবরজ কেটে নষ্ট করেছে, দুটি গরু নিয়ে গেছে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গিয়াসউদ্দিনের পরিবার। এতে তাঁদের ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকার দৃশ্যমান ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গিয়াসউদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা চাওয়াই আমাদের জন্য কাল হয়েছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টো আমাদের মাদক কারবারি বানিয়ে ভিডিও ছড়িয়েছে এবং বালুর পয়েন্ট দখলের চেষ্টা করেছে। এখন আমরা ভয়ে আত্মগোপনে আছি।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সুইপুরা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বাজারে প্রথম কে কাকে মারধর করেছে, তা বোঝা যেতে পারে। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা দরকার।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও জোরজবরদস্তির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসা জরুরি।

চরতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবদু ছবুর বলেন, টাকা-পয়সার লেনদেন এবং বালুর পয়েন্ট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি শুধু মাদকসংক্রান্ত ঘটনা নয়; বালুর ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধও এর পেছনে রয়েছে।

চরতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হানিফ চৌধুরী বলেন, সুইপুরা বাজারে মারধর ও বালুর পয়েন্টে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকী জানান, সুইপুরা বাজারে মারধর ও বালুর পয়েন্টে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মামলার প্রথম আসামিকে স্থানীয়রা মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। কারও ওপর অন্যায়ভাবে হামলা বা সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়ে থাকলে, তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মামলার বাদী মোহাম্মদ হারুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, মাদক কারবারের অভিযোগ এবং বালুর পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ—সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: