গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মায়ের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চারজন শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি আহাদ (২১) নামের এক অভিযুক্তকে জানালে তিনি গর্ভপাতের জন্য ওষুধ এনে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ওষুধ সেবনের পর গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে শিশুটির গর্ভপাত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।
এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে আহাদ, শামীম (৪২) ও নজরুল ইসলাম (৪৫) রয়েছেন। তাঁদের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। অপর অভিযুক্তের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা গেছেন। তার মা ও বড় বোন স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে এবং পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।