পলাশবাড়ীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও সড়ক

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় করতোয়া নদী, নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা, খাল এবং ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের

2026-10-22T16:23:41+00:00
2026-10-22T16:23:41+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পলাশবাড়ীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও সড়ক
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় করতোয়া নদী, নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা, খাল এবং ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে উত্তোলিত বালু ট্রলি, নছিমন ও পিকআপে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন ও মাটিক্ষয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাঁধ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কিশোরগাড়ী, হোসেনপুর ও বাঁধসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। মেরিরহাট আমবাগান ও হাসবাড়ী সড়ক দিয়েও বালুবাহী যান চলাচল করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় এসব যানবাহনের চলাচল বেশি দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বালুবাহী যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি যান থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। হোসেনপুর বাজার এলাকার জেনারুল নামের এক যুবকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মেরিরহাট এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে এই সড়ক দিয়ে অনেক বালুবাহী ট্রলি চলাচল করে। মেরিরহাট আমবাগান ও হাসবাড়ী সড়ক হয়ে এসব ট্রলি আসে। এর পেছনে একটি চক্র রয়েছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চান না।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে বালুবাহী ট্রলির ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক দুর্ব্যবহারের শিকার হন। এ ছাড়া বালু উত্তোলন ও পরিবহনের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কিশোরগাড়ী এলাকার এরশাদ, আমিনুল, রাসেল ও আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেলিম বলেন, রাতে কিছু বালুবাহী ট্রলি চলাচল করে। কারা বালু উত্তোলন করছে—এমন প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে পারেননি। তবে এলাকার কিছু তরুণ মাঝেমধ্যে বালু নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে তারা সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অর্থদণ্ড এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পাইপ ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম জানিয়েছেন, নতুন করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

সাংবাদিক পাপুল সরকার বলেন, অভিযান পরিচালনার পরও যদি বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে এর উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি জনবসতি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: