
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় এক বছরের আলোচনা ও প্রস্তুতির পর গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই সমঝোতা জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।
চুক্তির আওতায় জাপানে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তুলনামূলক ভালো বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানি স্থানীয় কর্মীদের মতো বাংলাদেশি কর্মীরাও দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষ করে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে চাকরিচ্যুতি কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ থাকবে না। একই কারণে কোনো নারী কর্মীকে জোর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।
সরকারের আশা, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। একই সঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।