
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন কারণে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশটিতে থাকা এবং ছুটিতে বাংলাদেশে আসা অনেক প্রবাসী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার।
১৯৭৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, চলতি বছরের জুলাই থেকে অনেকের ভিসা কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বাতিল হতে শুরু করে। ই-মেইল, মোবাইল বার্তা কিংবা তাঁদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এ অবস্থায় দেশে ছুটিতে আসা অনেকেই কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনগত অভিযোগ নেই। আমিরাতে তাঁদের ব্যবসা ও পরিবার থাকলেও ভিসা বাতিলের কারণে সেখানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভিসা বাতিল করছে বলে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা এখন প্রায় ৪ হাজার ৮০০। কোন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তা আমিরাতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিষয়গুলো আবারও যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারে তৈরি হওয়া সংকট দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, ভিসা বাতিলের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব থাকতে পারে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যুতে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নজরে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।