গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক পোশাকশ্রমিককে (২০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলাটি করেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি স্থানীয় ডিবিএল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সিলেটের কোতোয়ালি থানার মাজারখানা এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফারুক (৩২) এবং শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে নয়নের (১৯) নাম। ফারুক গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার আক্তার হোসেন দোলনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই নারী ও তাঁর স্বামী গত ছয় মাস ধরে স্থানীয় হারুন অর রশিদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিককে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে মালামাল সরানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তাঁরা।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফারুক ও নয়ন ওই নারীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তিনি বাসায় ফিরে আসেন। রাত ৯টার দিকে ফারুক ও নয়ন তাঁদের দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই দম্পতির ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে চারজন মিলে স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
এরপর নয়ন ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিৎকার থামাতে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ফারুক এবং অজ্ঞাতনামা দুই সহযোগীর বিরুদ্ধেও পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে বলা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ির আশপাশে অবস্থান করায় ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি ওই নারী। পরে স্বজনদের সহযোগিতায় থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাঁকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে বলা হয়েছিল, তাঁর স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁকে একাধিকবার মারধর করেন। পরে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। বিচার চাইতে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাতেই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।