নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলার রায়পুরা, শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
এর মধ্যে রায়পুরায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। শিবপুরে চলন্ত ইটবাহী ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে এক শ্রমিক এবং বেলাবতে ইটবাহী ট্রলির চাপায় এক শিশু নিহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের মাহমুদনগর ১০ নম্বর ব্রিজের কাছে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একটি অটোরিকশা নরসিংদীর আরশিনগর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে রায়পুরার দিকে যাচ্ছিল। হাসনাবাদ অতিক্রম করে মাহমুদনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি অটোরিকশার সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়।
এতে একটি অটোরিকশা সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং অন্যটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় দুটি যানবাহনই দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে উজ্জ্বল শীল (৩৫) নামের এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
উজ্জ্বল শীল রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র শীলের ছেলে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে শিবপুর উপজেলার শিবপুর কলেজ গেট এলাকায় চলন্ত ইটবাহী ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে মো. ছাব্বির মিয়া (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। ট্রলির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ছাব্বির মিয়া উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার ছেলে।
একই দিন সকালে বেলাব উপজেলার পাটুলি নদীপাড় এলাকায় ইটবাহী ট্রলির চাপায় আলিশা আক্তার নোহা (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নোহা পাটুলি গ্রামের কাশেম মিয়ার মেয়ে।
পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।