পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু, এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারির ইডেন গার্ডেন বলরুমে ‘সুরক্ষা (SURAKKHA)’ প্রকল্পের জাতীয় শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের মতো জটিল দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। শুধু আগাম সতর্কবার্তা তৈরি করলেই হবে না, তা যেন দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো ও সহজ ভাষায় পৌঁছায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সেভ দ্য চিলড্রেন, ইকো (ECHO) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাচিং প্রু বলেন, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির সহনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে বনায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলোর মধ্যে সুপেয় পানি ও টেকসই স্যানিটেশনের অভাব অন্যতম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ পানির সুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার পৌঁছে দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কিশোর ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তরুণ প্রজন্মকে স্মার্টফোন ও গেমিংয়ের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে বের করে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান খান।