মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক, নীতিবান ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমিলাইশ কাঞ্চনা বঙ্গ চন্দ্র ঘোষ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, একটি আদর্শ ও স্মার্ট জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নীতিবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাস পুরকায়স্থ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিতে হবে। মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে বিদ্যালয় ও পরিবারকে একসঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকী বলেন, কিশোর অপরাধ, সাইবার অপরাধ ও মাদক থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল কাদের। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অতিথি ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।