নানাবাড়ির জেলায় প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

ফেনী সংবাদদাতা

জাতীয়

নানাবাড়ির জেলা ফেনীতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পা রেখেছেন তারেক রহমান। একদিকে সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ফেনী সফর, অন্যদিকে

2026-10-01T15:33:06+00:00
2026-10-01T15:33:06+00:00
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
নানাবাড়ির জেলায় প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী
ফেনী সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নানাবাড়ির জেলা ফেনীতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পা রেখেছেন তারেক রহমান। একদিকে সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ফেনী সফর, অন্যদিকে এ জেলা তাঁর পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে। তাঁর নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফলে এবারের সফরকে ঘিরে ফেনীবাসীর আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পারিবারিক আবেগও।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। বর্তমানে তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

ফেনীতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির প্রথম বড় আয়োজন হচ্ছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) উদ্বোধন। পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়েও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প

ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মায়ের স্মৃতির জেলার সঙ্গে পারিবারিক টান

ফেনী শুধু প্রশাসনিকভাবে একটি জেলা নয়, তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গেও এ জেলার রয়েছে দীর্ঘ সম্পর্ক। তাঁর নানা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেও ফেনী-১ আসনের রয়েছে দীর্ঘ স্মৃতি; ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত এ আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এই পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত জেলাতেই সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম সফর করছেন তারেক রহমান। ফলে প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি সফরটির সঙ্গে পারিবারিক আবেগের একটি আলাদা মাত্রাও তৈরি হয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম ফেনী সফরের বিষয়টি একাধিক প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ ও রুফটপ সোলার

বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

কার্ড ও সম্মানী বিতরণ

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পুরো ফেনী জেলায় কৃষক কার্ড পাবেন ৭ হাজার ৬৪৩ জন। এ ছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।

দিনভর সরকারি কর্মসূচির ব্যস্ততার মধ্যেও তাই এবারের ফেনী সফরে আলাদা হয়ে উঠেছে একটি ব্যক্তিগত আবেগ—নানার গ্রাম, মায়ের স্মৃতিবিজড়িত জেলা এবং সেই ফেনীতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আগমন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: