এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন নয়

সোহাগ রাসিফ

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রকাশিত ‘চাকরি

2026-10-01T12:15:21+00:00
2026-10-01T12:15:21+00:00
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন নয়
প্রযোজ্য হবে সরকারি চাকরিজীবীদের গেজেট অনুযায়ী
সোহাগ রাসিফ
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম 
প্রতীকী ছবি
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন ও গেজেট অনুযায়ী এমপিওভুক্ত জনবলের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হবে। গতকাল বুধবার অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের যৌথ আলোচনায় এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে পৃথক প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা ছাড়াই সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের আইনি ও প্রশাসনিক পথ পরিষ্কার হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করতে পূর্বে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির পরিকল্পনা ছিল। তবে গতকাল বুধবার অর্থ বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্তির জন্য আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারির আইনি প্রয়োজন নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইতোমধ্যে যে গেজেট জারি করা হয়েছে, সেটিকেই এমপিওভুক্ত জনবলের জন্য প্রযোজ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

অতীতে দেখা গেছে, প্রতিটি জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদাভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতো। তাছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তাঁরা শতভাগ ভাতা বা সব ধরনের সুবিধা পান না। এবার পৃথক গেজেট না হওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নতুন সিদ্ধান্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন স্কেল অনুযায়ী সরাসরি বৃদ্ধি পাবে। তবে তাঁদের বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। বেতন নির্ধারণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারিগরি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবে।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’ অনুমোদিত হওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং ১৯ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। কিন্তু মূল গেজেটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন স্কেলে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় দেশব্যাপী শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। যদিও ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)-সহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ১৯৯৭ সালের চতুর্থ জাতীয় বেতন স্কেল থেকে চলে আসা ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের সমান যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। তাঁরা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানায়।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া : জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী ও এমপিওভুক্ত কর্মী সবার মূল বেতন নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট দুটি গাণিতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এই হিসাবের জন্য একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, তৎকালীন গ্রেড এবং নতুন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের তথ্য প্রয়োজন হবে।

১. প্রারম্ভিক ধাপে থাকা কর্মচারীর হিসাব : কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর বিদ্যমান স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে মূল বেতন পেয়ে থাকেন, তবে নতুন স্কেলেও তিনি সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই নতুন মূল বেতন পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী যদি পুরোনো ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপ ৯,৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন, তবে ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকার নতুন স্কেলে তাঁর নতুন মূল বেতন সরাসরি ২১,৯০০ টাকা নির্ধারিত হবে।

২. প্রারম্ভিক ধাপের ওপরে থাকা কর্মচারীর হিসাব : কোনো কর্মচারী যদি সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন (ইনক্রিমেন্টসহ) পেয়ে থাকেন, তবে প্রথমে পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপ থেকে ৩০ জুনে প্রাপ্ত তাঁর মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে। প্রাপ্ত এই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সাথে যোগ করা হবে। যোগফলটি যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, তবে সেটিই হবে নতুন মূল বেতন। আর যোগফলটি যদি নির্ধারিত কোনো ধাপে না মেলে, তবে তার পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপে নতুন মূল বেতন চূড়ান্ত হবে। যেমন : পুরোনো ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা স্কেলের একজন কর্মচারী ৩০ জুনে ১৩,৭ ৯০ টাকা মূল বেতন পেতেন। এক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের শুরুর ধাপের সঙ্গে তাঁর মূল বেতনের ব্যবধান (১৩,৭৯০-১২,৫০০) = ১,২৯০ টাকা। নতুন স্কেল ২৫,০০০-৬০,৫০০ টাকা হলে, প্রারম্ভিক ২৫,০০০ টাকার সঙ্গে ১,২৯০ টাকা যোগ করলে হয় ২৬,২৯০ টাকা। নতুন স্কেলে ২৬,২৯০ টাকার কোনো ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬,৩০০ টাকা তাঁর নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে।

বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি, সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এই নিয়মে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সুফল সরাসরি ভোগ করবেন দেশের সাড়ে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।



Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: